বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৪০টিরও বেশি দেশ কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনতে চুক্তি সই করেছে। এ জন্য বিভিন্ন দেশ, যেমন যুক্তরাজ্যকে বাতাস ও সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস ও পারমাণবিক শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে।

কপ ২৬ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কয়লা ব্যবহারকারী দেশ চীন ও ভারতকে কয়লার ব্যবহার কমাতে হবে। আশা করা হচ্ছে, গ্লাসগোর ঘোষণা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির বাজারে বিনিয়োগ বাড়াবে।

ঘরে সৌর প্যানেলের ব্যবহার বাড়বে। ঘরবাড়ি তৈরিতে কার্বনের বিকল্প ব্যবহার বাড়াতে হবে। ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অরূপ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ইভা হিঙ্কারস বলেন, ঘরবাড়িগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। ভবনের ছাদগুলো করতে হবে উষ্ণতারোধী। এ ছাড়া বাড়িতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করার মতো ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ভবিষ্যতে জলবায়ুবান্ধব খাবারের জন্য আমাদের অনেক বেশি ব্যয় করতে হবে।

কারণ, জলবায়ুবান্ধব করে খাবার সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচ বেশি হবে। আমাজন, ইউনিলিভার ও আইকেয়ারের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, পণ্য সরবরাহের জন্য তারা কার্গো জাহাজের ওপর নির্ভর করার উপায় খুঁজছেন। এসব কার্গো জাহাজ পরিশোধিত জ্বালানিতে চলে। বন উচ্ছেদ বন্ধের জন্য সয়াবিন, গরু, পামতেলের মতো খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। এতে সস্তায় এসব খাবার আর পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

গ্লাসগো সম্মেলনে প্রধান অ্যাজেন্ডা ছিল বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ এবং পরিবেশ রক্ষা। এ কারণে শহর ও বিভিন্ন এলাকায় সবুজায়নের ওপর জোর দিতে হবে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এমিলি সুকবুর্গ বলেন, ‘যদি আমরা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করি, তাহলে পরিবেশও আমাদের সহায়তা করবে।’

দ্য ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টসের প্রধান নির্বাহী ক্রেইগ বেনেট বলেন, বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এখন গতিশীল হয়েছে।

বন উজাড় স্থগিত করার লক্ষ্যে শতাধিক দেশ চুক্তি সই করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই বনায়ন নিয়ে সচেতনতা না বাড়ালে বন উজাড় বন্ধ কখনোই সম্ভব না।
স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের টবি গার্ডনার বলেন, কপ ২৬ সম্মেলনের ঘোষণা সফল করতে হলে গ্রাহকদের পণ্যের জন্য আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। চার শতাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সবুজবান্ধব প্রযুক্তি বিনিয়োগে বেশি অর্থ ব্যয়ে সম্মত হয়েছে।

গ্লাসগোর স্ট্রাহক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথিউ হ্যানন বলেন, কার্বন নিঃসরণ শূন্যে আনতে পারলে জীবনযাপন আরও উন্নত করা সম্ভব।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন