default-image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইতালির ৭২ বছর বয়সী খ্রিষ্টান ধর্মযাজক জুয্যাপো বিআরদালি। তাঁকে দেওয়া হয়েছিল লাইফ সাপোর্ট। কিন্তু তা খুলে অচেনা এক কম বয়সী রোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ওই রোগী তাঁর পরিচিত কেউ নন। এই ফাদারের মৃত্যু হয়েছে দিন দশেক আগে।

করোনাভাইরাস সারা দুনিয়ায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে, মৃত ও আক্রান্তের হার প্রতিদিন বেড়েই যাচ্ছে। ভয়াবহ সংকটের সময় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। নিজের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আরেকজনের জীবন বাঁচাতে ফাদার জুয্যাপোর মতো মানুষের কাহিনিও আছে।

ইতালির কাসনিগোর জুভার্নি বাতিসতার একটি চার্চের ফাদার হলেন জুয্যাপো বিআরদালি। ধর্মযাজক জুয্যাপো বিআরদালি গত ১৫ বা ১৬ মার্চ মারা যান বলে খ্রিষ্টানদের পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

ইতালিতে করোনাভাইরাস ভয়াবহভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব দেখা দেয়। দেশটিতে চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠিয়েছে।

ফাদার জুয্যাপো ইতালির বার্গামোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ইতালিতে এই শহরটিতে বহু মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আর দেশটিতে অন্তত ৫০ জন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হিসাবমতো, ইতালিতে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ১৭৬ জন আক্রান্ত হয়েছে, ৬ হাজার ৮২০ জন মারা গেছে।
১২ মার্চ থেকে ইতালির সরকার বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। এরপরও থামছে না মৃত্যুর মিছিল।

লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার একটি কারণ হতে পারে দেশটির জনসংখ্যায় প্রবীণদের সংখ্যাধিক্য। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালির বাসিন্দাদের প্রায় ২৩ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। দেশটিতে বসবাসরত মাঝবয়সী জনসংখ্যা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্য লোকাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিতে যারা এই সংক্রমণে মারা গেছে, তাঁদের বেশির ভাগের বয়স ৮০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা ক্যানসারে ভুগছিলেন। অনেকে আবার ধূমপান করতেন। সেই কারণেই তাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়েছিল।

ইতালিতেও ভালো খবর আছে। সেই ভালো খবরের নাম হলো ইতালির ছোট্ট শহর ভোঁ। এ শহরে সব বাসিন্দাকে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করার পর দারুণ সফলতা পাওয়া গেছে। শহরটিতে এখন সংক্রমণের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে।

ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাদুয়ার অণুজীববিজ্ঞানের অধ্যাপক আন্দ্রেয়া ক্রিসান্তি এবিসির দ্য ওয়ার্ল্ড টুডেকে বলেন, ‘আমরা সবাইকে পরীক্ষা করেছি। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করি।’ তিনি আরও জানান, মোট বাসিন্দার ৩ শতাংশ (৮৯ জন) মানুষের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কোনো লক্ষণ নেই, এমন মানুষের শরীরেও করোনা শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি গবেষকদের জন্য ছিল খুবই উদ্বেগের। ভোঁ শহরে সংক্রমণ শূন্যে নেমে এসেছে। সব নাগরিকের করোনা পরীক্ষার পর মেলে এই সফলতা।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন