বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, প্যারিস থেকে সিডনি, নাইরোবি থেকে সিউল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী কয়েক ডজন শহরেও গতকাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

গ্লাসগো শহরে বিক্ষোভ আয়োজক ও পুলিশ বলেছে, তারা কপ ২৬ সম্মেলন কেন্দ্রের আশপাশে ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হতে পারে বলে ধারণা করেছিল। বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি থেকে ২ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়টি টিকিয়ে রাখতে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা গ্লাসগো সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

১২ দিনের কপ সম্মেলনের ইতিমধ্যে অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কয়েকটি দেশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর অঙ্গীকারে সই করেছে। কয়লার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার জন্য পৃথক চুক্তিসহ মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধের অঙ্গীকার করেছে কয়েকটি দেশ।

তবে এসব ঘোষণায় পরিবেশকর্মীরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। ইতিমধ্যে কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলনকে ব্যর্থ বলেছেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। গত শুক্রবার শহরটির রাস্তায় এক বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। সম্মেলনকে দুই সপ্তাহের ব্যবসায়িক উদ্‌যাপন বলে সমালোচনা করে গ্রেটা বলেন, ‘ব্লা, ব্লা, ব্লা’।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গ্লাসগোতে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ। এদিন বিক্ষোভে যোগ দেন সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, কপ-২৬ সম্মেলন যে ব্যর্থ, তা আর অজানা কিছু নয়। এটিকে এখন আর জলবায়ু সম্মেলন বলা যায় না; বরং এটি পরিবেশ রক্ষার নামে লোকদেখানো উৎসব ছাড়া কিছুই নয়। জলবায়ু সম্মেলনকে সবুজ মুছে ফেলার উৎসব বলেও কটাক্ষ করেন গ্রেটা।

গ্রেটা মনে করেন, এ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা যতটা না কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে জোর দেন, তার চেয়ে বেশি ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় মনোযোগ দেন। এ সম্মেলন মূলত দেশগুলোর জন্য দুই সপ্তাহের ব্যবসায়িক উদ্‌যাপন।

থুনবার্গ আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিশ্বনেতারা বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ উপেক্ষা করতে পারবেন না, আমাদেরও এড়িয়ে যেতে পারবেন না। তাঁরা এভাবেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।’

বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ১৮ বছর বয়সী ভ্যালেন্তিনা রুয়াস বলেন, ‘বিশ্বনেতারা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য সম্মেলন করছেন। কিন্তু এখনই আমরা জলবায়ু সংকটে রয়েছি। তাঁদের জলবায়ুনীতি যদি সত্যিই জলবায়ু রক্ষার জন্য না হয়, তাহলে তা মেনে নেব না।’

অনেক শিক্ষার্থীকেও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে ‘জলবায়ু পরিবর্তন বাড়ির কাজের চেয়েও খারাপ’।

কপ ২৬ সম্মেলনের শুরুতে শতাধিক দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতারা এই দশকে মিথেন নিঃসরণ অন্তত ৩০ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা দীর্ঘ মেয়াদে কমানো সম্ভব হবে না।

পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, দূষণকারী ধনী দেশগুলো বরাবরই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ।

গতকাল পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ভানেসা নাকাতে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে তাঁর মাতৃভূমি উগান্ডার মানুষ ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছে, শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে, খামার ধ্বংস হচ্ছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন