default-image

নানা কারণে মানুষ জন্মভূমি ছাড়ে। কেউ কেউ অনিশ্চিত জীবনের পথে পা বাড়ায় শুধু ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে। নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটু ভালো থাকে, এই আশায়। কখনো বৈধ পথে, কখনো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে, অবৈধ পথে।
অভিবাসন ঠেকাতে অনেক দেশে অনেক আইন–কানুন, নিয়ম চালু করেছে। এখনো করছে। অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি কেউ কেউ দেয়ালই তুলে দেওয়াকে উত্তম মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকতে দেশটিতে অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে বেশ কটি আইন করেছিলেন। দিয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞাও। অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। বাইডেন ক্ষমতায় এসে দেয়াল তোলার কাজ বন্ধ করলেও সীমান্তে অভিবাসীদের ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনিও। সম্প্রতি সীমান্তে অভিবাসীদের অবস্থা জানতে সেখানে পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছেন বাইডেন।
অভিবাসী ঠেকাতে যেসব সীমান্তে বেড়া–দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে:

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো

মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সীমান্ত এলাকায় তিন হাজার দুই শ কিলোমিটার বেড়া থাকা সত্ত্বেও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সীমান্তে দেয়াল তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, তাঁর সময়ে তিনি ৬৫০ কিলোমিটার দেয়াল নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্প ১৩০ কিলোমিটার দেয়াল তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এদিকে বাইডেন নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার পর তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল এই দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করা।

বিজ্ঞাপন

হাইতি–ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র

হাইতি সীমান্তে দেয়াল তোলার ঘোষণা দিয়েছিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র। তারা বলছে, দরিদ্র অভিবাসী ঠেকাতে তারা আরও বেড়া তৈরি করবে।

হাঙ্গেরি–সার্বিয়া

অভিবাসী সমস্যা সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে গোটা ইউরোপ। পরিস্থিতি সামলাতে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালে সার্বিয়া সীমান্তে ১৭৫ কিলোমিটার বেড়া দেয় হাঙ্গেরি। এর আগে ক্রোয়েশিয়া সীমান্তেও তারা বেড়া নির্মাণ করেছিল।

গ্রিস-তুরস্ক

তুরস্কের সঙ্গে এভ্রোস নদীর সীমান্তে ২০১২ সালের দিকে ১১ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছিল এথেন্স। অভিবাসী ঠেকাতে আরও ২৬ কিলোমিটার দেয়াল তুলছে গ্রিস। আগামী মে মাসের মধ্যে দেয়াল নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে তারা তুরস্ক সীমান্তের ১৯২ কিলোমিটারের বেড়াটি পাঁচ মিটার উঁচু পাতের দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে গ্রিস। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ওই দেয়ালে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

default-image

বুলগেরিয়া-তুরস্ক

২০১৪ সালে তুরস্ক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে বুলগেরিয়া। এ পর্যন্ত ১৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বলকান অঞ্চলের দেশ ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলো স্লোভেনিয়া, মেসেডোনিয়া, অস্ট্রিয়াসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসী ঠেকাতে নিজেদের সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করেছে।

স্পেন-মরক্কো

উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপের স্থলসীমান্তে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন বেড়া নির্মাণ করেছে স্পেন। এসব সীমান্তবেড়ার একেকটি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
অনেক দেশ তাদের প্রতিপক্ষ দেশের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করেছে:

ইসরায়েল-পশ্চিম তীর

২০০২ সালে পশ্চিম তীরে ৭১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণ শুরু করে ইসরায়েল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের কাজে ব্যবহার করবে ইসরায়েল এবং তারা একটি কার্যকর সীমান্ত তৈরি করবে, যেটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এই বেড়া কয়েকটি পয়েন্টে ৯ মিটার পর্যন্ত উঁচু। সীমান্তে বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি তারা নজরদারি ক্যামেরা–সংবলিত পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করেছে।

সৌদি আরব-ইরাক

ইরাক সীমান্তে আগেই সাত মিটার উঁচু বালুর দেয়াল নির্মাণ করেছিল সৌদি আরব। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের (আইএস) প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি ক্যামেরা বসানোসহ সীমান্তে ৯০০ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণ করেছে।

ভারত-পাকিস্তান

কাশ্মীরকে পাকিস্তান থেকে কার্যত আলাদা করতে ওই সীমান্তে ৭৫০ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণ করেছে ভারত।
সীমানা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন সময়ে দেয়াল–বেড়া দেওয়া হয়েছে:

default-image

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সেনানিযুক্ত সীমান্ত উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়া, সেন্সর, ল্যান্ডমাইন ও ভারী অস্ত্রসজ্জিত সীমান্তটি ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

পশ্চিম সাহারা

১৯৮০ সালে পশ্চিম সাহারা মরুভূমি অঞ্চলে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার বালুর দেয়াল নির্মাণ করেছিল মরক্কো। পোলিসারিওর বিদ্রোহীদের কাছ থেকে এর ৮০ শতাংশ সীমান্ত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে এই বালুর দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল। পোলিসারিওর বিদ্রোহীরা সত্তরের দশক থেকে নিজেদের জন্মভূমির নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই করছেন।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন