default-image

রাশিয়ার কারাবন্দী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে অনতিবিলম্বে অনশন ভাঙতে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসকেরা। তা না হলে তিনি মারা যেতে পারেন বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন। আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

নাভালনির পাঁচজন চিকিৎসক এক বিবৃতিতে তাঁর প্রতি এই আহ্বান জানান। পাঁচ চিকিৎসকের বিবৃতিটি গতকাল বৃহস্পতিবার মিডিয়াজোনা নামের রাশিয়ার একটি স্বাধীন সংবাদ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে চিকিৎসকেরা বলেন, ২০ এপ্রিল নাভালনির যেসব স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) হয়েছে, তার ফলাফল দেখার সুযোগ তাঁদের হয়েছে।

স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পাঁচ চিকিৎসক বলেন, যদি সামান্য সময়ের জন্যও নাভালনির অনশন অব্যাহত থাকে, তাহলে দুঃখজনকভাবে তিনি শিগগিরই মারা যেতে পারেন।

নাভালনি কারাগারে যাওয়ার আগে ওই চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা করেছিলেন। কারাগারে নাভালনিকে দেখার অনুমতি এই চিকিৎসকদের এখন পর্যন্ত দেয়নি রুশ কর্তৃপক্ষ।

রাজধানী মস্কোর পূর্বের ভ্লাদিমির অঞ্চলের একটি হাসপাতালে নাভালনির স্বাস্থ্যগত পরীক্ষাগুলো করা হয়। এই পরীক্ষা ও তার ফলাফলকে মোটামুটি স্বাধীন হিসেবে বর্ণনা করেছেন নাভালনির চিকিৎসকেরা। তাঁরা বলছেন, নাভালনির মেডিকেল টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতেই একটি উপসংহারে এসেছেন।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেন, নাভালনির কিডনি ও স্নায়ুব্যবস্থার (নার্ভ সিস্টেম) যে সমস্যা, তাতে তিনি আর অল্প সময়ও অনশন চালালে মারা যেতে পারেন।

জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নাভালনিকে অনতিবিলম্বে অনশন থামানো উচিত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তাঁর চিকিৎসকেরা।

নাভালনির সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে রুশ কর্তৃপক্ষের প্রতি চিকিৎসকেরা আহ্বান জানিয়েছেন।

নাভালনির চিকিৎসকদের এই বিবৃতির বিষয়ে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিজ্ঞাপন

নাভালনির স্বাস্থ্যের অবনতিতে গত বুধবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞ। জাতিসংঘের চার বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, নাভালনির জীবন গুরুতর বিপদে রয়েছে।’

এ অবস্থায় কারাবন্দী নাভালনিকে চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাশিয়া থেকে বাইরের দেশে নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। নাভালনিকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দিতে তাঁরা রুশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘের চার বিশেষজ্ঞ বলেন, কারাবন্দী অবস্থায় নাভালনির জীবন ও স্বাস্থ্যগত যেকোনো অবস্থার জন্য রুশ সরকার দায়ী থাকবে। একই কথা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও বলেছে।

৪৪ বছর বয়সী নাভালনি রাশিয়ার একজন সুপরিচিত বিরোধী নেতা। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নাভালনি বর্তমানে রাশিয়ার কারাগারে আছেন। তিনি ৩১ মার্চ থেকে কারাগারে অনশন শুরু করেন। পিঠে তীব্র ব্যথা ও পায়ের অসাড়তার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তিনি অনশনে যান।

নাভালনির পরিবার, চিকিৎসক, আইনজীবী ও সহযোগীরা কিছুদিন ধরে বলে আসছেন, তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাঁর অবস্থা এমন যে তিনি মারা যেতে পারেন। নাভালনির স্বাস্থ্য নিয়ে দেশ-বিদেশে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে তাঁকে গত সোমবার একটি কারা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রাশিয়ার কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ভ্লাদিমির অঞ্চলের একটি কারাগারের বিশেষায়িত হাসপাতালে নাভালনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থা সন্তোষজনক। তাঁকে একজন চিকিৎসক নিয়মিত দেখছেন। তাঁকে ভিটামিন দিয়েছেন চিকিৎসক। তিনি তা নিতে সম্মত হয়েছেন।

তবে নাভালনিকে ঠিক কী চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়েছে, চিকিৎসাপত্রে তাঁর সম্মতি আছে কি না, সে সম্পর্কে এই বিরোধী নেতার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বা প্রতিনিধিরা কিছুই জানেন না।

নাভালনির সমর্থকেরা বলছেন, তাঁর অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছে গোপন করছে। এ ছাড়া যে কারা হাসপাতালে নাভালনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেটি গুরুতর অসুস্থ যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসার বিশেষায়িত হাসপাতাল।

ক্রেমলিনের হুমকি উপেক্ষা করে গত ১৭ জানুয়ারি জার্মানি থেকে দেশে ফেরেন নাভালনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থ আত্মসাতের পুরোনো একটি মামলায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে নাভালনিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই দণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন নাভালনি।

নাভালনিকে গত বছরের আগস্টে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সময় তিনি সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে উড়োজাহাজে করে মস্কোয় ফিরছিলেন। যাত্রাপথে উড়োজাহাজেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ সাইবেরিয়ার ওমস্কে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন।

বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বরে জার্মানি জানায়, নাভালনিকে রাশিয়ান নার্ভ এজেন্ট 'নোভিচক' প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞরাও একই কথা বলেন। বিষ প্রয়োগের জন্য সরাসরি পুতিনকে দায়ী করেন নাভালনি। তবে পুতিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বানে ক্রেমলিন কর্ণপাত করেনি।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন