default-image

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) অবিলম্বে অ্যালেক্সি নাভালনিকে মুক্তি দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এতে ভ্লাদিমির পুতিনের এই কট্টর সমালোচকের ভাগ্য নিয়ে ইউরোপ ও মস্কোর মধ্যে নতুন এক বিরোধের সূচনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা মানবাধিকার আদালতের ওই আদেশ মানবে না। অবশ্য ইউরোপীয় কাউন্সিলের সদস্য হতে গেলে এই আদেশ মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মস্কো বলছে, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের সিদ্ধান্ত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় বিষয়ের ওপর অশোভন ও স্থূল হস্তক্ষেপ।

বুধবার ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত নাভালনির জীবন ও স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় সাময়িক মুক্তি মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, সরকার তাঁর জীবন এবং স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারেনি।

এ মাসের শুরুতে রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন মস্কোর একটি আদালত। ২০১৪ সালের জালিয়াতির একটি মামলায় স্থগিত সাজার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে নাভালনিকে এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জালিয়াতির মামলায় নাভালনির স্থগিত সাজা কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়। এ মামলায় তিনি ইতিমধ্যে এক বছর গৃহবন্দী ছিলেন। সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে এই এক বছর বাদ যাবে।

মামলাটিকে বানোয়াট হিসেবে বর্ণনা করেছেন নাভালনি। আদালতে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিষ প্রয়োগকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত ১৭ জানুয়ারি জার্মানির বার্লিন থেকে রাশিয়ার মস্কোয় ফেরেন নাভালনি। তাঁকে বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের আগস্টে রাশিয়ায় বিষ প্রয়োগের শিকার হয়ে নাভালনি জার্মানির বার্লিনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন।

নাভালনির সাজার রায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ বলেছে, এই রায় সব বিশ্বাসযোগ্যতার বাইরে।

রাশিয়ার বিচারমন্ত্রী কনস্টানটিন চুয়িচেনকো ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের আদেশকে ‘অপ্রয়োগযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তিকে হেফাজত থেকে মুক্ত করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

রাশিয়া গত বছর নতুন সাংবিধানিক সংশোধনী গ্রহণ করেছে। যাতে বলা হয়েছে, দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করার অধিকার মস্কোর রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে তারা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করে।

১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় কাউন্সিলে যুক্ত হয় রাশিয়া। তবে পুতিনের অধীনে এ কাউন্সিলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে মস্কো ভোটের ক্ষমতা হারায়। তবে ২০১৯ সালে আবার সে ক্ষমতা ফিরে পায় দেশটি।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন