বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রক্ত পরীক্ষা ও বিষ প্রয়োগের বিষয়টি আমলে নিয়ে নাভালনিকে অবিলম্বে পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তাঁর চিকিৎসকেরা কারা কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

৪৪ বছর বয়সী রাজনীতিক নাভালনি গত বছরের আগস্টে প্রায় মরতে বসেছিলেন। সে সময় তিনি সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে উড়োজাহাজে করে মস্কোয় ফিরছিলেন। যাত্রাপথে উড়োজাহাজেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ সাইবেরিয়ার ওমস্কে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তিনি কোমায় চলে গিয়ে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বরে জার্মানি জানায়, নাভালনিকে রাশিয়ান নার্ভ এজেন্ট ‘নোভিচক’ প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞরাও একই কথা বলেন।

বিষ প্রয়োগের জন্য সরাসরি পুতিনকে দায়ী করেন নাভালনি। তবে পুতিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বানে ক্রেমলিন কর্ণপাত করেনি।

ক্রেমলিনের হুমকি উপেক্ষা করে গত ১৭ জানুয়ারি দেশে ফেরেন নাভালনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া জানিয়েছেন, কারাগারে তাঁর স্বামীর ওজন নয় কেজি কমে গেছে। এখন তাঁর ওজন ৭৬ কেজিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

নাভালনিকে বিষ প্রয়োগের পর তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের অন্যতম আলেক্সান্ডার পোলুপান। তিনি নাভালনির রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন অনলাইনে পোস্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার এই ফলাফল নিশ্চিতভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নাভালনির জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দরকার। তা না হলে তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মারা যেতে পারেন।

এদিকে ৭০ জনের বেশি লেখক, শিল্পী ও শিক্ষক নাভালনি ইস্যুতে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিতে তাঁরা নাভালনির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিটি দ্য ইকোনমিস্টসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল শনিবার বলেছেন, নাভালনিকে যে ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, তা পুরোপুরি অন্যায্য ও অনুপযুক্ত।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন