বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পেনসিল স্কার্টের বদলে ঢিলেঢালা জ্যাকেট ও ট্রাউজার পরতে পারবেন তাঁরা।
স্কাইআপের বিপণনপ্রধান মারিয়ানা গ্রিগোরাশ বলেন, ‘উড়োজাহাজে নারী কর্মীদের কাজের ধরন রোমান্টিক ঘরানার নয়। এটি কঠিন কাজ। আমরা বুঝতে পেরেছি যে নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা নিজেদের যৌনতা ও আমোদ-প্রমোদের বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে দিতে চায় না।’

স্কাইআপ এয়ারলাইনসের ২৭ বছর বয়সী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ডারিয়া সোলোমেনায়া বলেন, ‘কিয়েভ থেকে জানজিবার যাওয়া-আসার ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সময় ১২ ঘণ্টা ধরে পায়ে হিলের জুতা পরে থাকতে হয়। এরপর পায়ের অবস্থা এমন হয় যে আর হাঁটাচলা করা সম্ভব হয় না বললেই চলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার সহকর্মীদের অনেককেই নিয়মিত চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হয়। উঁচু হিল পরার কারণে পায়ের আঙুল ও নখ ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

ডারিয়া মনে করেন, হিল ও পেনসিল স্কার্ট পরে কাজ করা নিশ্চিতভাবেই সহজ নয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পানিতে জরুরি অবতরণের পরিস্থিতি তৈরি হলে উড়োজাহাজের পাখার ওপরে থাকা দরজা খুলে দেওয়ার জন্য একজন অ্যাটেনডেন্টকে দৌড়ে যেতে হয়। যাত্রীরা সবাই তখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন বের হওয়ার। এমন অবস্থায় একজন নারী কেবিন ক্রুর পক্ষে করিডর দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। তখন তাঁকে উড়োজাহাজের আসনের ওপর উঠে সামনে যেতে হয়। ওই পরিস্থিতিতে হিল জুতা ও পেনসিল স্কার্টের মতো আঁটসাঁট পোশাকে তা করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

ডারিয়া বলেন, ‘কল্পনা করে দেখুন তো, পেনসিল স্কার্ট পরে কীভাবে আমি কাজটি করব?’

একইভাবে জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রে উঁচু হিলের জুতাও পায়ে রাখা যায় না। আর সে কারণে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তাবিধির আওতায় খালি পায়ে কাজ করতে বাধ্য হতে হয়।

শুধু যে জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রেই এয়ারলাইনসের পুরোনো ধারার ইউনিফর্মকে অযথার্থ মনে হয়, তা কিন্তু নয়। সময় ও জলবায়ুর তারতম্য থাকা অঞ্চলগুলো দিয়ে অনিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার সময়ও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে। এ ধরনের ফ্লাইট শুরু হওয়ার পরপরই যাত্রীদের সবার দৃষ্টি থাকে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দিকে। জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের ধারণা দেওয়ার কাজ করতে হয় তখন।

ডারিয়া বলেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীরা আসনে বসে থাকায় লাইফ জ্যাকেট, মাস্ক ও বেল্টগুলো নিচে সাজিয়ে রাখা হয় এবং প্রয়োজনের সময় সেগুলো নিচে বসে একটি একটি করে তুলতে হয়। পেনসিল স্কার্ট পরা থাকলে ওইভাবে নিচে বসাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ওলেনা স্ট্রেলনিক বলেন, অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় নারী কেবিন ক্রুকে যৌনতা ও নারীত্বের সাধারণ প্রতিচ্ছবি হিসেবে একটু বেশিই উপস্থাপন করা হয়।

default-image

ইউক্রেনও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তবে গত কয়েক বছরে ইউক্রেন নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। ওলেনা স্ট্রেলনিক বিশ্বাস করেন, দেশটিতে নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক অনেক প্রচলিত প্রথার অবসান ঘটতে শুরু করেছে। ইউরোপে এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইউনিফর্ম নীতিমালা পাল্টানোর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। তবে ইউক্রেনে এমন ঘটনা এটাই প্রথম।

স্কাইআপ তাদের ইউনিফর্ম নীতিমালায় পরিবর্তন আনলেও তাদের প্রতিযোগীরা যে একই পথে হাঁটছে, তা কিন্তু নয়। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান হলো ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (ইউআইএ)। শেয়ার মার্কেটে বড় ধরনের বিনিয়োগও রয়েছে তাদের। প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ইউনিফর্ম নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে না ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা যথেষ্ট সময়ের জন্য বিরতি পান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের জুতার হিলগুলোও অতটা উঁচু নয়। বরং এগুলো একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড মোতাবেক তৈরি।

এয়ারলাইনস শিল্পের পুরোনো প্রথাগুলোকে আঁকড়ে রাখার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিটি কোম্পানিরই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত বলে বিশ্বাস করে তারা।

স্কাইআপ এয়ারলাইনসের আগেও কিছু এয়ারলাইনস নিজেদের ঐতিহ্যগত প্রথায় পরিবর্তন এনেছিল। এর মধ্যে রয়েছে ভার্জিন আটলান্টিক, জাপান এয়ারলাইনস ও নরওয়েজিয়ান এয়ার। ভার্জিন আটলান্টিক তাদের নারী কর্মীদের রূপসজ্জার কড়াকড়ি থেকে রেহাই দিয়েছিল। রূপসজ্জা না করেই কাজে যোগদানের অনুমতি পেয়েছিলেন তাঁরা।

আর উঁচু হিল পরার বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছিল জাপান এয়ারলাইনস। শুধু তা-ই নয়, পেনসিল স্কার্টের বদলে ট্রাউজার পরারও সুযোগ পেয়েছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীরা। অন্যদিকে নরওয়েজিয়ান এয়ার নারী কর্মীদের হিল ছাড়া জুতা পরার অনুমতি দিয়েছিল। রূপসজ্জা করার বাধ্যবাধকতাও বাতিল করেছিল তারা।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন