default-image

রাশিয়ার প্রধান বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি নিজের আটকাদেশকে ‘সরাসরি অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন। আটক থাকা অবস্থায় ভিডিওর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এক আপিল শুনানিতে তিনি এমনটা দাবি করেন। তবে বিচারক তা নাকচ করে দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ নাভালনি উড়োজাহাজে করে জার্মানির বার্লিন থেকে রাশিয়ার মস্কোয় পা রাখামাত্র আটক হন। ২০১৪ সালের একটি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় স্থগিত দণ্ডের প্যারোলের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে নাভালনিকে আটক করা হয়। পরে থানাতেই আদালত বসিয়ে তাঁকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন।

এরই মধ্যে পুলিশ নাভালনির আইনজীবী ও ভাইসহ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিজ্ঞাপন

নাভালনির ডাকে, গত শনিবার তাঁর মুক্তির দাবিতে হাজারো মানুষ রাশিয়ার রাজপথে নেমে আসেন। রাজধানী মস্কোসহ দেশটির অন্তত ১০০টি শহর-নগরে বিক্ষোভে শামিল হন হাজারো মানুষ। এরই জের ধরে তাঁদের গ্রেপ্তার হয়।

রুশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরিনা ভলক বলেন, এই বিক্ষোভের আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছেন।
আপিল শুনানিতে নাভালনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসনে সব ‘চোর’। তাঁর সঙ্গে সরকারের বর্তমান আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে মুখ বন্ধ করে দিতে...আমাকে এবং বাকিদের ভয় দেখাতে এমনটা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি দেশের বস, এটাই দেখাতে চান। কিন্তু আপনি তা নন। আপনি এখন ক্ষমতায় আছেন, কিন্তু এটি চিরস্থায়ী নয়।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে নাভালনি পরিচিত।

গত বছরের আগস্টে সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে মস্কোয় যাওয়ার পথে উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েন নাভালনি। প্রথমে তাঁকে সাইবেরিয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে যান। নাভালনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। বার্লিনে চিকিৎসা নিয়ে ধীর ধীরে সেরে ওঠেন তিনি। মাস কয়েক বার্লিনে থাকার পর নিজ দেশ রাশিয়ায় ফিরলেন তিনি।

নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নাভালনিকে সোভিয়েত আমলে তৈরি নার্ভ এজেন্ট নোভিচক প্রয়োগ করা হয়েছিল।

নাভালনি ও তাঁর সহযোগীদের অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই তাঁকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।
তবে নাভালনিকে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ক্রেমলিন।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন