তবে এখনো ন্যাটোর সদস্য হিসেবে পূর্ণ অনুমোদন না পাওয়ায় ন্যাটো দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সুবিধা পাবে না। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে অন্য মিত্রদের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়। অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত ফিনল্যান্ড ও সুইডেন এ শর্তের মধ্যে পড়বে না। সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়টি জোটের পার্লামেন্টে অনুমোদন প্রয়োজন, যা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর রুশ আক্রমণের আশঙ্কায় ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। এর মধ্য দিয়ে দেশ দুটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বেরিয়ে এল।

ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ এ প্রটোকল সইকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক টেবিলে ৩২টি দেশ। আমরা আরও শক্তিশালী হব। যৌথ নিরাপত্তায় অবদান রাখতে প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক ইউরোপের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্য ন্যাটোর দরজা খোলা রয়েছে।’

জেনস স্টলটেনবার্গ মিত্রদের দ্রুত ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ন্যাটোতে যোগদানের অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানান এবং এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত ন্যাটোর সমর্থন জানানোর কথা বলেন।

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান লিন্ডে ন্যাটোকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। গত মার্চ মাসে রাশিয়া হুমকি দিয়ে বলেছিল, ন্যাটো জোটে যোগ দিলে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে গুরুতর সামরিক ও রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

মস্কো জানায়, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিলে এই অঞ্চলে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করবে। এর অংশ হিসেবে দেশ দুটিকে লক্ষ্য করে সীমান্তে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মস্কো।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত সপ্তাহে স্পেনের মাদ্রিদে ন্যাটোর এক শীর্ষ সম্মেলনে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। দেশ দুটিকে জোটে নেওয়ার বিরোধিতা থেকে তুরস্ক সরে আসার পর জোটটি সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ওই আমন্ত্রণ জানায়।

কোনো দেশকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে জোটের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত আবশ্যক। তুরস্কের বিরোধিতার কারণে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

তুরস্কের কুর্দি বিদ্রোহীদের সংগঠন পিকেকের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে যোগদানের সম্মতি দেয় আঙ্কারা। এ নিয়ে ন্যাটো মহাসচিবের মধ্যস্থতায় তিন দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়।

গত সপ্তাহে মাদ্রিদে চার ঘণ্টা আলোচনার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তাঁদের সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে একমত হন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন