ফিনল্যান্ডের সামরিক নীতির পরিবর্তন প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ক্রেমলিনের বিবৃতিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন আগেও ফিনল্যান্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে আগ্রহ ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন জানিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করতে চায় না তাঁর দেশ। তবে ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরর পর দেশটির অধিকাংশ মানুষ ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। বদলে গেছে সানা মারিনের অবস্থানও। এখন তিনি ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পার্লামেন্টে তুলতে চান। একই কারণে ন্যাটো জোটের সদস্য হতে চায় সুইডেনও।

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগে ফিনল্যান্ডের ৫৩ শতাংশ ও সুইডেনের ৪১ শতাংশ মানুষ ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পক্ষে ছিল বলে জরিপে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সুইডেনে ন্যাটোতে যোগদানের পক্ষে জনমত ৫০ শতাংশের বেশি হয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এই হার এখন ৬৮।

ন্যাটোতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দিলেও অনেক আগে থেকেই জোটটির সঙ্গে কাজ করছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানের ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন দেশ দুটির সেনাসদস্যরা। দুই দেশই সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

এদিকে ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার মুখে দেশটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া। এর আগে দেশটির রুশ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘রাও (আরএও) নর্ডিক’ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেয়। এরপরই ফিনল্যান্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হলো। ফিনল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘ ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার (৮১০ মাইল) সীমান্ত রয়েছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন