স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার ভোরে জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে বলে জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা। হামলার পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিস্থিতি নিয়ে ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ গ্রাহাম এলিসন বিবিসিকে বলেন, এভাবে আগুন জ্বলতে থাকলে পারমাণবিক চুল্লিটি গলে যাবে। এতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে এবং বছরের পর বছর ধরে এর প্রভাব থাকবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রে যে বিপর্যয় হয়েছিল, এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

তবে গ্রাহাম এলিসন মনে করেন, এ মুহূর্তে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে কী ঘটছে, তা বলা কঠিন। তাঁর ধারণা, বিপর্যয় এড়াতে ইউক্রেনীয়রা প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকতে পারেন। সম্ভবত রুশ সেনারাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। এই পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেছেন, যে পারমাণবিক চুল্লিতে আগুন লেগেছে, সেটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। সে কারণে ওই চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ কম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এলিসন মনে করেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যেন আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) টুইটার পোস্টে বলেছে, এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরিবর্তনের খবর পাওয়া যায়নি।

জাপোরিঝঝিয়া ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইউক্রেনের এক-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ এখান থেকেই সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন