এরপর জো বাইডেনের বক্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বাইডেন রাশিয়ায় শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের আহ্বান জানাননি। তিনি বলতে চেয়েছেন, পুতিনকে তাঁর প্রতিবেশী দেশ বা অঞ্চলের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দেওয়া যাবে না।

হোয়াইট হাউসের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান কূটনীতিক রিচার্ড হাস। নিউইয়র্কভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড হাস গতকাল এক টুইটে বলেছেন, বাইডেনের মন্তব্য একটি কঠিন পরিস্থিতিকে আরও কঠিন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টাদের রাশিয়ার কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতি পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক এই পরিচালক বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের এ বিষয় স্পষ্ট করা উচিত যে তাঁরা বর্তমান রুশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য নিয়ে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। গতকাল তিনি বলেছেন, আক্রমণাত্মক বক্তব্য যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়াকে আটকে দিতে পারে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে মাখোঁ বলেন, মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং সেখান থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার। কিন্তু কথা বা কাজের মধ্য দিয়ে উত্তেজনা বাড়ানো হলে তা সম্ভব হবে না।

ইউক্রেন সংকটের শুরু থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছেন এমানুয়েল মাখোঁ। রুশ সেনাদের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী মারিউপোল থেকে বেসামরিক ব্যক্তিদের সরিয়ে আনার সুযোগ তৈরির জন্য আগামী দু–তিন দিনের মধ্যে পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

মিত্রদের কাছ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও প্রেসিডেন্টের মন্তব্য নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। ইসরায়েল সফরে গিয়ে গতকাল ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ও হোয়াইট হাউস গত রাতে এটা স্পষ্ট করছে যে যুদ্ধ করা অথবা ইউক্রেন বা অন্য কোথাও আগ্রাসন চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্ষমতায়িত হতে পারেন না।’ তিনি বলেন, রাশিয়া বা অন্য কোথাও ক্ষমতার পরিবর্তনের কোনো কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের নেই। অন্য সব দেশের মতো এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি নির্ভর করবে রাশিয়ার জনগণের ওপর।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুস গতকাল বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন যদি ইউক্রেন অভিযানের সমাপ্তি টানেন এবং আর আগ্রাসন না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে রাশিয়ার অভিজাত ব্যক্তি, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

গতকাল ইউক্রেনের রুশ হামলার ৩২তম দিন ছিল। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ বাহিনী। রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থান নিয়ে গুলিবর্ষণ করছে তারা। ইউক্রেনের সেনারা তাদের প্রতিরোধ করছেন। দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলীয় মারিউপোল শহরেও সামরিক–বেসামরিক স্থাপনায় রুশ বাহিনীর হামলা চলছে। আগের দিন পশ্চিমাঞ্চলীয় লিভিভ শহরে ব্যাপকভাবে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, রাশিয়ার যুদ্ধবিমান যাতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতার মধ্যে না পড়ে, সে কারণে নিজেদের আকাশসীমা থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র–গোলা নিক্ষেপ করছে।

এ পরিস্থিতিতে রুশ হামলা থেকে রক্ষায় পশ্চিমাদের প্রতি আবারও যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, মেশিনগান দিয়ে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা যাবে না। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ন্যাটো কী করছে? এরা কি রাশিয়া দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে? তারা কিসের জন্য অপেক্ষা করছে? আজ ৩১তম দিন। ন্যাটোর যা আছে, তার মাত্র ১ শতাংশ আমরা চাইছি, তার বেশি কিছু নয়।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন