যুদ্ধবিরতিসহ পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাত অবসানে একটি চুক্তিতে একমত হয়েছেন জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতারা। ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধবিরতি আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।
বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে গত বুধবার শুরু হওয়া দীর্ঘ আলোচনায় একমত হন চারটি দেশের নেতারা।
জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মুখপাত্র স্টিফেন সিবার্ট এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘মিনস্ক সম্মেলনের এই ঐকমত্য পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাত নিরসনে আশার সঞ্চার হলো।’ তিনি জানান, মিনস্কে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা আলোচনা চলে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে ঠিক হয়েছে। এরপর ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করা হবে।
রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আলেকজান্ডার জাখারচেঙ্কোও শান্তি চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্য হওয়ায় সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে সংলাপের অন্যতম উদ্যোক্তা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ততটা উচ্ছ্বসিত নন। তিনি বলেছেন, সংকট নিরসনে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
ক্রেমলিনের প্রকাশ করা যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, চার ইউরোপীয় নেতাই ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘প্রধান ইস্যুগুলোর ব্যাপারে আমরা একমত হতে পেরেছি।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো বলেছেন, আলোচনা থেকে প্রধান অর্জন হলো, আগামীকাল শনিবার থেকে পরের দিন রোববারের মধ্যে কোনো শর্ত ছাড়াই সাধারণ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা।
ম্যার্কেল ও ওলাঁদ বুধবার বিকেল থেকে পুতিন এবং পোরোশেঙ্কোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। দীর্ঘ ওই আলোচনা গতকাল সকাল পর্যন্ত গড়ায়। আলোচনা শুরুর আগেই বুধবার কিয়েভের ওপর চাপ বাড়াতে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধ চালায়।
পূর্ব ইউক্রেনে সম্প্রতি যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ‘আগ্রাসন থেকে’ রক্ষায় ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন। এতে করে ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
রুশপন্থী বিদ্রোহীদের পুতিন সরকার অস্ত্র ও সেনা দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে বলে ইউক্রেন সরকার ও ন্যাটো অভিযোগ করে আসছে। তবে রাশিয়া তা অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের এ যুদ্ধে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন