১০ এপ্রিল ফ্রান্সে নির্বাচনে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেবার গণনা হওয়া ৯৭ শতাংশ ভোটের মধ্যে মাখোঁ পান ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অপর দিকে লঁ পেনের দখলে ছিল ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। প্রথম পর্বে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী ছিলেন ১২ জন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পর্বের ভোটে শীর্ষ দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নেন।

গতকাল স্থানীয় সময় সকাল আটটায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ। শেষ হয় রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা)। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল নির্বাচন সংস্থা।

default-image

এবারের নির্বাচন ফরাসিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, মেরিন লঁ পেনকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে মনে করা হয়। তিনি জিতলে ফ্রান্স তো বটেই, সারা বিশ্বের জন্য তা হতো বড় ধাক্কা; যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় কিংবা ব্রেক্সিটের পক্ষে যুক্তরাজ্যের মানুষের ভোটের সময় যেমনটা ঘটেছিল।

এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে যাঁদের মাথাব্যথা নেই, তাঁদের একজন হুগো উইন্টার। রাজধানী প্যারিসের এই বিক্রয়কর্মীর মতে, রাজনীতিবিদেরা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন না।

তবে মাখোঁর পক্ষে ভোট দিয়েছেন আন্দ্রে ললেট নামে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের দুয়াই শহরের একজন বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁর (মাখোঁ) কিছু দোষ থাকলেও পাশাপাশি গুণও রয়েছে।’ ১০ এপ্রিলও মাখোঁকে ভোট দিয়েছেন তিনি।

অপর দিকে মাখোঁর ব্যাপারে নিরাশ হয়ে লঁ পেনকে বেছে নিয়েছেন প্যাসকেল পলোইন। ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লঁ মানস শহরের নিকটবর্তী সুইলে গ্রামের এই বাসিন্দা বলেন, ‘সত্যি বলতে গেলে, আমি খুবই হতাশ। বছরের পর বছর ধরে ফ্রান্সে ভালো কিছু হচ্ছে না। মধ্যবিত্তদের জন্য মাখোঁ কিছুই করেননি। তাঁদের সঙ্গে ধনীদের ফারাকটা বেড়েই চলেছে।’

দ্বিতীয় মেয়াদে মাখোঁর দায়িত্ব পালন মোটেও সুখের হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁর নেওয়া ব্যবসায়ীপন্থী নানা পরিকল্পনার জেরে বিক্ষোভ শুরু হতে পারে। এ ছাড়া সামনের দিনগুলোতে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে আগামী জুনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করা।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন