default-image

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ওর্লি বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টা করতে গিয়ে সেনাসদস্যের গুলিতে নিহত ব্যক্তির নাম জিয়েদ বেন বেলগাসেম (৩৯)। তিনি তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, জিয়েদ এক সেনাসদস্যের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে সেটি তাঁর মাথার দিকে তাক করেছিলেন।
এদিকে জিয়েদের বাবা এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর ছেলে আগে ভালো ছিল। তবে মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে এ কাজ করে থাকতে পারে।
পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা শনিবার বলেন, জিয়েদ বেন বেলগাসেম সেদিন প্যারিসের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দরে টহলরত এক নারী সেনাসদস্যের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সেনাসদস্যের দিকে অস্ত্র তাক করার বর্ণনা পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, জিয়েদ ওই নারী সেনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লে সহকর্মীরা জিয়েদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সুযোগ পান।
পুলিশ বলেছে, জিয়েদের পিঠের ব্যাগে পেট্রোলের একটি পাত্র এবং এক কপি কোরআন শরিফ ছিল।
প্যারিসের কর্তৃপক্ষ এই হামলাচেষ্টার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, জিয়েদ আগেও বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তিনি চরমপন্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন—এমন ইঙ্গিত মিলেছে। জঙ্গিদের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জিয়েদের উত্তর-পূর্ব প্যারিসের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কিছু কোকেন ও একটি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্যারিসের সরকারি আইন কর্মকর্তা (প্রসিকিউটর) ফ্রাঁসোয়া মোলাঁ বলেন, জিয়েদের মধ্যে সন্ত্রাসী প্রবণতা ছিল। প্রতিবেশীদের বিবরণ অনুযায়ী তিনি ‘বিপজ্জনক’ ছিলেন। চরমপন্থায় তাঁর জড়িত থাকার বিষয়ে আগেও তদন্ত হয়েছিল। এ ছাড়া সশস্ত্র ডাকাতির দায়ে জিয়েদ ২০০১ সালে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান।
সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারীরা শনিবারই জিয়েদের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। গতকাল তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ভাইসহ দুই আত্মীয়কে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনজনই নিজে থেকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
বিমানবন্দরের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে জিয়েদ শহরের অন্য এলাকায় পুলিশের দিকে গুলি ছুড়ে একটি মোটরগাড়ি ছিনতাই করে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এতে এক পুলিশ সদস্য মাথায় হালকা আঘাত পান। জিয়েদের বাবা ও ভাই তদন্তকারীদের বলেছেন, ওই ঘটনার দেড় ঘণ্টা পরও জিয়েদের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। দুজনই তাঁকে তিরস্কার করেন।
ওর্লি বিমানবন্দরের কার্যক্রম গতকাল রোববার আবার স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার সেখানে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন।
ফ্রান্সে গত বছর বেশ কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে গত দুই বছরে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্য ও সমমনা জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে অন্তত ২৩০ জনকে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন