ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দুই মাসের কম সময় আগে প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত হন মাখোঁ। কিন্তু ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ভালো ফল করেছে বাম-গ্রিন জোট ও কট্টর ডানপন্থীরা। পার্লামেন্ট নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন মাখোঁ। কিন্তু তাঁর মধ্যপন্থী জোট কয়েক ডজন আসন হারিয়েছে। এতে ফরাসি রাজনীতি আরও ভাগ হয়ে গেছে। ফ্রান্সের ৫৭৭ আসনের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৮৯ আসন। কিন্তু মাখোঁর মধ্যপন্থী জোট এনসেম্বলে পেয়েছে ২৪৫টি আসন।

সম্প্রতি এলিজাবেথ বর্নিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছিলেন মাখোঁ। এলিসি প্রাসাদ বলেছে, পরিস্থিতির মুখে গতকাল সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের প্রস্তাব দেন বর্নি। তবে প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করেন। মাখোঁ বলেন, তিনি অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে গঠনমূলক সমাধান খুঁজবেন।

পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ একটি প্রথা। তবে প্রেসিডেন্ট প্রায়ই একই ব্যক্তিকে পদে রাখেন, যাতে তিনি নতুন সরকার গড়তে পারেন। তবে এবার পরিস্থিতি পৃথক। তাই মাখোঁর পক্ষ থেকে বর্নিকে একই মন্ত্রিসভা নিয়ে সরকার চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি সম্ভবত মাখোঁর সময়ক্ষেপণের প্রচেষ্টা। কোনো এক সময় গিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে, যেখানে বর্নির সরকারপ্রধান থাকার বিষয়টি থাকতেও পারে, আবার না-ও পারে।

তবে সমস্যা সমাধানে এলিসি প্রাসাদের পক্ষ থেকে আজ বুধবারও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট মাখোঁ অতি ডানপন্থী রিপাবলিকানদের সঙ্গে জোট গড়ার কথা ভাবছেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁদের নেতা ক্রিশ্চিয়ান জ্যাকব প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মেরিন লা পেনও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দলের নেতারা আলোচনায় বসবেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাখোঁর জোটের সামনে দুটি পথ খোলা। অন্যদের জোটে ভিড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা অথবা সংখ্যালঘু সরকার চালিয়ে যাওয়া। সংখ্যালঘু সরকার চালিয়ে গেলে প্রতিটি বিল পাসের সময় দলগুলোর সঙ্গে তাঁর জোটকে আলাদাভাবে মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন