বিক্ষোভে বাবার সঙ্গে অংশ নেন ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলেক্সান্ডার সিবরিমভ। তিনি বলেন, ‘আমরা পুতিনের বিরুদ্ধে। আমরা তাঁর রাজনীতির সঙ্গে একমত নই। ইউক্রেনে যা ঘটছে, তা ঠিক নয়—বিশ্বকে সেটা দেখানোর এটাই উপায়।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। প্রতিবেশী দেশটিকে ‘নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিমুক্ত করতে’ এই ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর দাবি করেছে মস্কো। তবে বিনা উসকানিতে হামলার ক্ষেত্র তৈরি করতেই এই ভিত্তিহীন অজুহাত দেওয়া হচ্ছে বলে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা অভিযোগ করেছে।

চেক রিপাবলিকে ৪৫ হাজার রুশের বসবাস, যা সাবেক কমিউনিস্ট-শাসিত দেশটিতে চতুর্থ বৃহৎ সম্প্রদায়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরুর আগে চেক রিপাবলিকে দুই লাখ ইউক্রেনীয়র বসবাস ছিল। হামলার পর নতুন করে তিন লাখ ইউক্রেনীয় দেশটিতে পালিয়ে এসেছে বলে ধারণা করছে চেক সরকার।

বিক্ষোভের আয়োজক আন্তন লিৎভিন বলেন, ‘রুশরা আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে—চেক রিপাবলিক ও চেক জনগণকে বিষয়টা দেখাতেই এ আয়োজন।’ প্রাগের বিক্ষোভকারীরা বলেন, রাশিয়ার জনগণও এমনটা মনে করে, কিন্তু বলতে পারছে না। এ বিক্ষোভের মাধ্যমে বিষয়টি তারা তুলে ধরতে পেরেছেন বলে বিশ্বাস করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবেক সেনা ওলেগ গোলোপিয়াতভ ১৫ বছর ধরে প্রাগে আছেন। তিনি বলেন, ‘রুশ বলেই আমরা যুদ্ধের পক্ষে, বিষয়টি এমন নয়। আমরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ইউক্রেন একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র। এখন যা ঘটছে, তা ভয়ংকর।’

আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ইউক্রেনে রুশ হামলার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাশিয়ায়ও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটিতে হাজারো যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন