ফোয়ারার নিচে মেয়রের হৃদয়

বিজ্ঞাপন
default-image

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ফোয়ারার সংস্কারের কাজ চলছে। হঠাৎ ভিত্তির নিচ থেকে বেরিয়ে এল ধাতব এক বাক্স। অলংকৃত সেই বাক্সের গায়ে নাম লেখা পিয়েরে ডেভিড। বাক্সটি খুলে পাওয়া গেল একটি জার, যার মধ্যে ইথানলে সংরক্ষিত ছিল একটি হৃদ্‌যন্ত্র। এ হৃদ্‌যন্ত্র ওই শহরের প্রথম মেয়র পিয়েরে ডেভিডের। বছরের পর বছর ধরে কথাটা মানুষের মুখে মুখে ফিরলেও এবার তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি শুনলে সিনেমাপ্রেমীদের হলিউড চলচ্চিত্র পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান–এর কথা মনে পড়ে যাবে। সেখানেও ডেভি জোনস নামের সমুদ্রের এক দস্যুনেতার হৃদ্‌যন্ত্র সংরক্ষিত ছিল একটি বাক্সের ভেতর। তবে বেলজিয়ামের ভেরভিয়ে শহরের ঘটনাটির সঙ্গে এ চলচ্চিত্রের মিল এটুকুই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, বেলজিয়ামের ইতিহাসে পিয়ের ডেভিড একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কারণ, বেলজিয়াম যখন ফ্রান্সের অধীন ছিল, সেই সময়ে ১৮০০ থেকে ১৮০৮ সাল পর্যন্ত এ ভেরভিয়ে শহরের মেয়র ছিলেন তিনি। তিনি মেয়র থাকা অবস্থায়ই বেলজিয়াম স্বাধীনতা অর্জন করে। এ ছাড়া ডাচদের শাসনের বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাতে প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল এ ভেরভিয়ে শহর। সেই বিধ্বস্ত ভেরভিয়ে পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পিয়েরকে। ফলে তাঁর বেশ সমাদর ছিল সে সময়। আরেকটি কারণে তিনি ভেরভিয়ের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০২ সালে এ শহরে অগ্নিনির্বাপণসেবা চালু করেছিলেন তিনি। সে সময় এমন সেবা চালুর ঘটনা বেশ বিরল।

১৮৩৯ সালে একটি ভবন থেকে পড়ে মারা যান পিয়েরে ডেভিড। তাঁর স্মরণে নির্মিত ফোয়ারাটি উদ্বোধন করা হয় ১৮৮৩ সালে। এর নামকরণ করা হয় তাঁর নামেই। এর আগেই পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে পিয়েরের হৃদ্‌যন্ত্র একটি ধাতব বাক্সে সংরক্ষণ করে ফোয়ারার ভিত্তির নিচে রেখে দেওয়া হয়। তবে হৃদ্‌যন্ত্র সংরক্ষণের ঘটনাটি একটা পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। মানুষের মুখে মুখে ঘটনাটি ফিরলেও কেউ আর বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু গত মাসে ওই ফোয়ারার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময়ই পাওয়া যায় বাক্সটি।

তবে আপাতত এখন পিয়েরের হৃদ্‌যন্ত্র আর ফোয়ারার নিচে থাকছে না। এটি নেওয়া হয়েছে শহরের মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টসে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২০ আগস্ট অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বক্সটি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন