ডেনমার্কের পুলিশ গতকাল রোববার ভোরে গুলি করে সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে। পুলিশের ধারণা, এই লোকটিই আগের দিন শনিবার রাজধানী কোপেনহেগেনে জোড়া হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা করে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
ফ্রান্সের প্যারিসে বিতর্কিত রম্য পত্রিকা শার্লি এবদোর কার্যালয়ে দুই উগ্রপন্থী মুসলিম যুবকের হামলার এক মাসের মাথায় ইউরোপের আরেক রাজধানীতে হামলার ঘটনা ঘটল। ফরাসি পত্রিকাটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র ছেপেছিল।
শনিবার কোপেনহেগেনের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একজন বন্দুকধারী চড়াও হয়ে গুলি চালালে নিহত হন ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। এরপর গতকাল ভোররাতে রাজধানীর মধ্যাঞ্চলে ইহুদিদের উপাসনালয় সিনাগগের বাইরে গুলিতে নিহত হয় এক কিশোর ইহুদি।
শনিবারের ঘটনার সময় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটির ক্যাফেতে ‘ইসলাম ও বাকস্বাধীনতা’বিষয়ক আলোচনা চলছিল। এতে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন সুইডেনের বিতর্কিত কার্টুনিস্ট লার্স ভিল্কস। তিনি মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন, যা নিয়ে ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী সহিংস বিক্ষোভ হয়।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর এ জোড়া হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়। একপর্যায়ে গতকাল স্থানীয় সময় ভোরের দিকে নোয়েরিব্রো এলাকায় অভিযানকালে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এক বন্দুকধারী। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে বন্দুকধারীর মৃত্যু হয়।
পুলিশ বলেছে, বিভিন্ন ভিডিওচিত্র পর্যবেক্ষণ করে তারা মনে করছে, হামলার দুটো ঘটনাই ওই একজন বন্দুকধারীরই কাজ।
হত্যাকারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে ডেনমার্কের পুলিশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা করা সন্দেহভাজন ব্যক্তির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। এতে তাকে কালো রঙের জ্যাকেট, খয়েরি-লাল রঙের ঘাড় পর্যন্ত ঢাকা টুপি পরা দেখা যায়। এ ছাড়া তার হাতে ছিল একটি কালো ব্যাগ।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন