বিজ্ঞাপন

আরএনডি বা রিডাক্সান নেটওর্য়াক জার্মানির পক্ষ থেকে সালিমুল হকের নেওয়া সাক্ষাৎকারটি জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যম গত সোমবার গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। সালিমুল হককে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ প্রতিরোধে কীভাবে এই ধরনের ধনী দেশ এতটা ভুল করতে পারে! বাংলাদেশের এই বিশেষজ্ঞ টেলিভিশনে জার্মানির বন্যার দৃশ্য দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেননি।
পত্রিকাগুলো লিখেছে, ৬৮ বছর বয়স্ক এই জলবায়ু বিজ্ঞানী বিশ্বজুড়ে অনেক বন্যা উপদ্রুত অঞ্চল দেখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের সব জলবায়ু সম্মেলনে তিনি অংশ নিয়েছেন এবং আইপিসিসির রিপোর্টগুলোতে তাঁর নিবন্ধগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
রিডাক্সান নেটওয়ার্ক জার্মানির সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ড. হক বলেছেন, যখন জার্মানিতে দুদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং রাস্তায় গাড়িগুলো ডুবে যাচ্ছিল, সেই অবস্থায় অনেক মানুষের তখনো পর্যন্ত বেসমেন্টে অবস্থান করাটা কতটা যৌক্তিক ছিল, তা একেবারেই বোধগম্য নয়। অভিজ্ঞতা থাকলে আদতে এ ধরনের বন্যায় একজনেরও মৃত্যু হওয়ার কথা নয়।

জার্মানির তুলনায় বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত দেশ। অতীতে এখনে প্রায়ই হাজার হাজার মানুষ ভয়াবহ বন্যার শিকার হতো। কিন্তু কয়েক দশক ধরে সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বন্যার প্রকোপ রইলেও, মৃতের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে।

সালিমুল হক বলেন, এখনো বন্যাপীড়িত দেশ হলেও বাংলাদেশ আগের মতো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে না। এই মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার আলোকে জার্মানিকে তিনি পাঁচটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

সালিমুল হক বলেন, এত দিন ধনী দেশগুলোর নাগরিকেরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ততটা গুরুত্ব দেননি। এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যর বিষয়ে নাগরিকদের আরও সজাগ করার প্রয়োজন রয়েছে। বন্যা এখন আর কেবল উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর বিষয় না। তাই জনগণকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আরও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জার্মানিতে আবহাওয়া–সংক্রান্ত তথ্যের অভাব ছিল না, কিন্তু তা নিয়ে যথাযথ প্রতিক্রিয়া বা সাবধানতার ঘাটতি ছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
দ্বিতীয় পরামর্শ হলো, বাংলাদেশে এখন প্রায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক লোকের হাতে মোবাইল আছে। দুর্যোগের সময় মানুষ ঘন ঘন পরিস্থিতি দেখে। জার্মানিতে এ ধরনের দুর্যোগের সময় ঘন ঘন বার্তা দেওয়া বা কোনো বিশেষ আবহাওয়া অ্যাপ্লিকেশন প্রচলন করতে পারে।

তৃতীয় পরামর্শ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাংলাদেশের অনুকরণে মেগাফোন নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে নামতে পারেন। উপদ্রুত এলাকার বাড়িঘর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

চতুর্থ পরামর্শ হলো, ঘন ঘন বৃষ্টিপাত হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর বাড়ির ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলী ও কাঠামো পরিবর্তন করা যেতে পারে।

আর সর্বশেষ বা পঞ্চম পরামর্শ হচ্ছে, কয়েক শতাব্দী ধরে যে নির্মাণশৈলীতে জার্মানির পুরোনো বাড়িঘরগুলো রয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তা আর জনবান্ধব বলে বিবেচিত হবে না। এই বিষয়ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের বোঝাতে হবে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের দীর্ঘ মেয়াদে স্থানান্তরের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

গত সপ্তাহের বন্যায় জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের দুই রাজ্যে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ও ১৭০ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন