দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী এদিনে বার্লিনে বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভে নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এ বছর ৮ ও ৯ মে বার্লিনের ১৫টি স্থানে ৫০টি সভা–সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। বার্লিনের পুলিশ জানিয়েছে, এ বছর এসব অনুষ্ঠানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পতাকা প্রদর্শন বা উভয় দেশের কোনো সামরিক বাদ্য বাজানো যাবে না।

এর আগে রাজধানী বার্লিনে ১৫টি স্মৃতিসৌধ এবং স্মারক স্থানগুলোতে সোভিয়েত প্রতীক প্রদর্শন হতো। সামরিক সংগীত এবং যুদ্ধের সময়কার পুরোনো ইউনিফর্ম পরে স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানগুলোতে হাজির হতেন অনেকে। বার্লিনের পুলিশ জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সময় অনেকেই বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানগুলোতে সহিংস ঘটনা ঘটাতে পারেন বলেই এ বিধি জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে জার্মানির বামপন্থী মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, বিশেষ করে এই দিনে বার্লিনে সোভিয়েত পতাকা নাৎসি হিটলারের পরাজয়ের বিশেষ প্রতীক বলে বিবেচনা করা হয়। ১৯৪৫ সালে নাৎসি জার্মানি ও হিটলারের পরাজয়ের পর জার্মানির পার্লামেন্ট বা রাইখস্ট্যাগের ছাদে রেড আর্মির সৈন্যরা নাৎসি স্বস্তিকা পতাকার পরিবর্তে হাতুড়ি এবং কাস্তেসংবলিত লাল পতাকা উড়িয়ে দেন।

বার্লিনের পুলিশ জানিয়েছে, শহরজুড়ে সব গুরুত্বপূর্ণ সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিসৌধগুলোর আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সহিংস ঘটনার আশঙ্কায় স্ট্রাসে দেস ১৭ জুনি, বুলেভার্ড, উনটের ডেন লিন্ডেন সড়ক, টিয়ারগার্টেন, ট্রেপটওয়ার পার্ক এবং প্যানকো-শোনহোলজে সোভিয়েত স্মৃতিসৌধ এলাকায় ব্যারিকেড দেওয়া রয়েছে। বার্লিন গেটের কাছে রাশিয়ার দূতাবাসের সামনে ফুটপাত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বার্লিন শহরজুড়ে ১ হাজার ৮০০ পুলিশ বিভিন্ন স্থাপনার আশপাশে মোতায়েন রয়েছে।

এসব এলাকায় শুধু রাশিয়ান বা ইউক্রেনীয় পতাকাই নয়, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা ও ইউক্রেনের লুহানস্ক এবং দোনেৎস্কর বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলের পতাকাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন