বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার ওই এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন অধিকারকর্মীরা। তাঁরা সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে কাজ করার অনুমতি দিতে পোল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে তারা সীমান্তে আটকে পড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাহায্য করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অধিকারকর্মীরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে তাঁদের কাছে আসা ক্ষুদে বার্তার কথা জানান। শরণার্থীদের কাছ থেকে আসা যেসব বার্তায় সাহায্যের আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের একদিন আগে বেলারুশ সীমান্তে ১৪ বছরের এক শিশু ঠান্ডায় মারা গেছে। অধিকারকর্মীরা বলেন, তাঁরা বেলারুশে আটকে পড়া শরণার্থীদের কাছ থেকে এ খবর শুনেছেন। তবে তাঁদের পক্ষে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আল-জাজিরার তথ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহে বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করে। এরপর থেকে সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সেসব এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তারা। জরুরি অবস্থা জারি করা সীমান্ত এলাকায় বেলারুশ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে অনেক শরণার্থী এবং অভিবাসী আটকা পড়েছেন। বেলারুশ থেকে ৩ কি. মি. (প্রায় ২ মাইল) দূরে অবস্থিত এলাকাটিতে প্রায় ২০০টি ছোট ছোট শহর ও গ্রাম রয়েছে। নিজেদের স্থানীয় বাসিন্দা প্রমাণ করতে পারাদেই ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যত দিন যাচ্ছে ঠাণ্ডার প্রকোপ ততই বাড়ছে। দুপুরের পরই দিনের আলো নিভে যাচ্ছে। সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা ও সাংবাদিকদের তল্লাশীচৌকি পেরিয়ে সীমান্ত এলাকায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে ওই এলাকার ভয়াবহতা ঠিকভাবে আঁচ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই সপ্তাহে আরও কয়েক শ শরণার্থী পোল্যান্ডের দিকে যাওয়ার পর এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। পোল্যান্ড ও তার মিত্ররা এই পরিস্থিতির জন্য বেলারুশকে দায়ী করছে। তারা বলছে, রাশিয়ার ইন্ধনে তারা মানুষকে পোল্যান্ডে প্রবেশের উসকানি দিচ্ছে, যাদের অনেকে মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক। দুই পক্ষের বাগযুদ্ধের মধ্যেই তৃণমূল পর্যায়ের বেসরকারি সংস্থাগুলো ইউরোপের অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানুষের জীবন বাঁচাতে মানবিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকেই সীমান্তে আটকা পড়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগের সঙ্গেই কনকনে শীতের হাত থেকে বাঁচার কাপড়টুকুও নেই। অনেকে শিশুসহ তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন