গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, উবার তার ব্যবসা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, ধনকুবের, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তা পেয়েছে।

গার্ডিয়ান যেসব নথি পেয়েছে সেগুলো বিশ্বের ৪০টি গণমাধ্যমের ১৮০ জন সাংবাদিককে দিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) মাধ্যমে এসব নথি সরবরাহ করেছে গার্ডিয়ান। যেসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে এর মধ্যে ৪০টি দেশে উবারের ব্যবসার তথ্য রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি যেসব কর্মযজ্ঞ চালিয়েছে, তার নথি রয়েছে এসবের মধ্যে।

গার্ডিয়ান বলছে, যেসব দেশে উবারের মতো প্রতিষ্ঠান চালানোর মতো কোনো আইন নেই বা এই রাইড শেয়ারিং অবৈধ, সেই সব দেশে ব্যবসা শুরুর আগে নতুন আইন করার ব্যবস্থা করেছে কিংবা সেখানে এমন কিছু বিধান তৈরি করে নিয়েছে, যাতে উবার ওই সব দেশে ব্যবসা করতে পারে।

গার্ডিয়ানসহ পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো এসব নথিকে ‘উবার ফাইলস’ নামে আখ্যা দিয়েছে। এতে বলা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে যেসব রাজনীতিকের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর নাম রয়েছে। উবারকে যখন সাহায্য করেছিলেন, তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই সময় উবারকে সাহায্য করতে গিয়ে ট্যাক্সি চালানো কঠিন করেছিলেন মাখোঁ।

কোনো কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালালে যাতে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য না পাওয়া যায়, সেই জন্য ‘কিল সুইচ’ ব্যবহারের আদেশ দিয়েছিলেন উবারের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা। অন্তত ছয়টি দেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিল উবার কর্তৃপক্ষ।

উবার যাতে যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তার লাভ করতে পারে, এ জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই উপদেষ্টা ডেভিড প্লুফ ও জিম মেসিনা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উবার কর্তৃপক্ষকে দেশটির রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁরা।

নেদারল্যান্ডসে ব্যবসা প্রসারে উবারকে সহায়তা করেছিলেন ইউরোপিয়ান কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিলি ক্রোস। নেদারল্যান্ডসের এই ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীও যুক্ত ছিলেন।

যুক্তরাজ্যে উবারের ব্যবসা প্রসারে সাহায্য করেছেন কমপক্ষে ছয় মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জর্জ অসবর্ন ও সাজিদ জাভিদ। উবারের মূল্য লক্ষ্য ছিল তখনকার লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন