বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে জরুরি জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গে কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যে বিশ্বনেতারা যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তাতে ব্যাপক ফারাক রয়েছে। বিষয়টি দুই দিনের বিক্ষোভের মাধ্যমে পরিবেশকর্মীরা তুলে ধরছেন। তাঁরা বিশ্বনেতাদের প্রতি খোলা মনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

গতকাল কপ ২৬ যুব দিবসের তিন ঘণ্টার বিক্ষোভে অংশ নেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও ভ্যানেসা নাকাতে।

ফিলিপাইনের পরিবেশকর্মী মিতজি জোনেলে তান বলেন, ‘এবারের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে আবার আমরা বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে বড় বড় কথা ও প্রতিশ্রুতি পাচ্ছি। আমাদের ব্যাপক কার্বন নির্গমন হ্রাস চাই। বিশ্বের উত্তর থেকে দক্ষিণ জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি রোধে ব্যবস্থাপনা চাই। এর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের অবসান ঘটাতে হবে।’

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি থেকে ২ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি টিকিয়ে রাখতে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা গ্লাসগো সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

বিশ্বের অনেক দেশ তাদের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বৃহস্পতিবার দুটি অতিরিক্ত অঙ্গীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ২০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা আগামী বছর থেকে অন্য দেশে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের উন্নয়নে আর বিনিয়োগ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে কয়লার ব্যবহার থেকে সরে আসার অঙ্গীকার করেছে বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশ। দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বাইরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ না করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। তবে এ নিয়ে বিশদ পরিকল্পনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়নি বা একটি সময়রেখাও প্রকাশ করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কপ ২৬–এর শুরুতে ১০০টির বেশি দেশ এই দশকে অন্তত ৩০ শতাংশ মিথেন নির্গমন কমানোর জন্য একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে পরিবেশবাদী গ্রুপগুলোর অভিযোগ, পরিবেশদূষণকারী ধনী দেশগুলো জলবায়ু নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।

কেনিয়ার পরিবেশকর্মী এলিজাবেথ ওয়াতহুতি বলেন, ‘গত সোমবার আমি গ্লাসগোতে বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে জলবায়ু সংকটের প্রথম সারিতে থাকা মানুষের কাছে তাঁদের হৃদয় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছি।’

জিম্বাবুয়ের পরিবেশকর্মী নাতালি তারিরো চিডো ম্যানগোনডো বলেন, ‘বিজ্ঞানীদের যা করার তাঁরা করেছেন। সমস্যা সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন। তরুণদের যা করার তাঁরা তা করেছেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। এখন বাদবাকি নেতাদের করতে হবে। তাঁদের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।’

গতকাল বিক্ষোভের আগে গ্লাসগোর সিটি সেন্টারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রচারকারীরা বলছেন, তাঁরা জলবায়ু বিক্ষোভের বৈশ্বিক রাউন্ডের অংশ হিসেবে আজ শনিবার স্কটিশ শহরে ৫০ হাজার পর্যন্ত বিক্ষোভকারীর প্রত্যাশা করছেন।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশমন্ত্রীর আপত্তি

২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় বন্ধে কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে একমত হয়েছেন শতাধিক বিশ্বনেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টও। তবে এই চুক্তির জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছেন পরিবেশমন্ত্রী সিতি নুরবায়া বকর। তিনি বলেছেন, পূরণ করা অসম্ভব এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইন্দোনেশিয়াকে বন উজাড় বন্ধে চাপ দেওয়াকে অনৈতিক বলেন তিনি।

বিবিসির খবরে বলা হয়, জলবায়ুসংকট নিরসনে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ ২৬ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে সোমবার বন উজাড় বন্ধে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিশ্বনেতারা। সম্মেলনটি থেকে এই প্রথম বড় কোনো ঘোষণা এল।

পরিবেশমন্ত্রী সিতি নুরবায়া বকর বলেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এরপরও ইন্দোনেশিয়ার উন্নয়নকে অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখা হবে।


কয়লাদূষণে বিপর্যস্ত চীন

বেইজিংয়ের হাইওয়ে এবং স্কুলের খেলার মাঠ শুক্রবার কয়লার ভারী দূষণের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়লা উৎপাদন বাড়ানোর কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটি। বেইজিংয়ের কর্তৃপক্ষ দূষণের জন্য প্রতিকূল আবহাওয়া এবং আঞ্চলিক দূষণের বিস্তারকে দায়ী করেছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন