default-image

ইউরোপে করোনা মহামারি নিয়ে নাকাল অবস্থার মধ্যে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। করোনার নতুন এই ধরন নিয়ে রাজনীতিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে জার্মানিসহ আরও কয়েকটি দেশ আগামীকাল সোমবার থেকে ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। করোনভাইরাস এই রূপান্তরকে বিশেষজ্ঞদের ভাষায় বি.১.৬১৭ বলা হচ্ছে এবং তা ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এটি স্পষ্ট যে ভারতীয় ধরনটি সাধারণত মূল করোনভাইরাস থেকে বেশি সংক্রামক। তবে এই সংক্রমণ ব্রিটিশ করোনার ধরনের চেয়ে আরও সহজেই সংক্রমণযোগ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্ট রন্ডসাউ পত্রিকাটি।

ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাংসদ মেনফ্রেড ভেবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের অনুরোধ করেছেন। ভেবার জানান, কানাডা ও যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছ।

জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়ান স্পান বলেছেন, ‘ভারতে নতুন আবিষ্কৃত ভাইরাসের পরিবর্তন সম্পর্কে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।’ সংবাদপত্র রাইনিশ পোস্টকে স্পান বলেছেন, ভাইরাসের ভারতীয় রূপান্তর রূপটি, বিশেষভাবে সংক্রামক এবং বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপে ২৩ এপ্রিল বেলজিয়ামে প্রথমবারের মতো করোনার ভাইরাসের নতুন ভারতীয় রূপটি আবিষ্কৃত হয়। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতীয় কিছু ছাত্রের মাধ্যমে ভাইরাসের ভারতীয় ধরনটি দেশটিতে এসেছে। এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে কিছু ছাত্র নার্স হিসেবে প্রশিক্ষণ শুরু নিতে বিমানে করে প্যারিস এসে পৌঁছান। পরে বাসযোগে বেলজিয়াম আসেন। ইউরোপে যাত্রার আগে এই শিক্ষার্থীদের একটি পিসিআর পরীক্ষা এবং প্যারিস পৌঁছে একটি দ্রুত পরীক্ষা করা হয়েছিল। বেলজিয়ামে পৌঁছানোর পাঁচ দিন পরে তাঁদের করোনার রোগের প্রথম লক্ষণগুলো দেখে দেয়। এসব ছাত্র এখন বেলজিয়ামের অ্যালস্ট এবং লেউভেনে শহরর কোয়ারেন্টিনে আছেন।

বেলজিয়াম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, সিঙ্গাপুরসহ আরও কিছু দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ভারতীয় রূপটি পাওয়া গেছে। অনেক দেশ ইতিমধ্যে ভারত থেকে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বা ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।

জার্মানিতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী টিকাদান কৌশলটি যত দ্রুত অগ্রগতি লাভ করবে, তা সারা বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক। এতে দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রিটিশ বা এখন ভারতীয় করোনার ধরনকে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন