জাতিসংঘ-সমর্থিত অস্ত্রবিরতি মেনে ইউক্রেনের সরকারি বাহিনী ও রুশপন্থী বিদ্রোহী উভয়েই রণাঙ্গনের সম্মুখভাগ থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। এ ঘোষণা আসার পর গতকাল রোববার দৃশ্যত অস্ত্রবিরতি চুক্তি মান্য হতে দেখা গেছে। চুক্তির আওতায় ১৯১ জন বন্দীও বিনিময় করেছে সরকার ও বিদ্রোহীরা। খবর এএফপি ও বিবিসির।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জেনারেল ওলেক্সান্দার রজমাজনিন গতকাল বলেন, ‘লড়াইয়ের সম্মুখভাগ থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যাপারে কাগজপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।’ রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা নিজস্ব সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বঘোষিত দোনেৎস্ক প্রজাতন্ত্রের নেতা এদুরাদ বাসুরিন বলেন, প্রত্যাহারের ‘প্রস্তুতিমূলক কাজ’ শুরু হয়ে গেছে। এর প্রক্রিয়া শেষ হবে ৭ মার্চের মধ্যে। পাশাপাশি অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নে যুক্ত রাশিয়ার সেনা কর্মকর্তা জেনারেল আলেক্সান্দার লেন্তসব বলেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একটি আদেশে সই করেছে, যার আওতায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র প্রত্যাহার শেষ করা হবে। প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কথা ছিল গতকালই।
ইউক্রেনের সেনা কর্মকর্তা জেনারেল রজমাজনিন বলেছেন, কখন অস্ত্রশস্ত্র প্রত্যাহার শুরু হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ইউক্রেনের গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, গতকাল দিনের শেষ ভাগেই তা শুরু হতে পারে।
জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত চুক্তিটি এক সপ্তাহ আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে। এর আওতায় ৩ মার্চের মধ্যে উভয় পক্ষের অস্ত্রশস্ত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পরও বিদ্রোহীরা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর দেবালৎসেভে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এতে করে চুক্তিটির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘মারাত্মক’ নতুন অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্ত ঘাঁটি দোনেৎস্ক শহরে থাকা একজন সাংবাদিক শহরের উত্তর দিকে গতকাল সকালে এক ঘণ্টাজুড়ে প্রচণ্ড গোলাবর্ষণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।
এই সংঘাতপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও ভালো খবর হিসেবে এসেছে বন্দী বিনিময়ের বিষয়টি। শনিবার গভীর রাতে ওই বন্দী বিনিময় হয়। এর আওতায় ইউক্রেনের ১৩৯ জন সেনাসদস্য ও ৫২ বিদ্রোহী যোদ্ধা মুক্তি পেয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে সম্পাদিত অস্ত্রবিরতি চুক্তিটিতে এই বন্দী বিনিময়ের বিষয়টিও ছিল।
মারাত্মক অবরোধের হুমকি: দেবালৎসেভে ও অন্যান্য এলাকায় অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি শনিবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এভাবে অস্ত্রবিরতি অমান্য করা চলতে থাকলে আরও পরিণামের মুখোমুখি হতে হবে রাশিয়াকে।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন