মারিউপোলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এক সপ্তাহেরও আগে রুশ সেনাদের প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছিলেন, ‘শিল্পাঞ্চলটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দাও, যাতে মশা-মাছিও আসা-যাওয়া করতে না পারে।’

অবশ্য রুশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২৫ জন বেসামরিক নাগরিক আজভস্তাল কারখানা থেকে সরে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ বছরের কম বয়সী ছয় শিশু রয়েছে। তবে তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

ইস্পাত কারখানায় থাকা সেনারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁরা ২০ নারী ও শিশুর কথা জানিয়েছেন। আজভ রেজিমেন্টের ডেপুটি কমান্ডার সভিয়াতোস্লাভ পালামার বলেছেন, ‘তাদের একটি উপযুক্ত জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, তাদের ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝঝিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হবে।’

মারিউপোলের মেয়র ভাদিম বোয়শেঙ্কো বিবিসিকে বলেন, ‘সেখানকার লোকজন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তাঁরা অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন। তাঁদের বাঁচাতে আমাদের হাতে কত দিন বা ঘণ্টা সময় আছে, তা বলা কঠিন।’

মারিউপোল দখল ইউক্রেনের পুরো দক্ষিণ উপকূল নিয়ন্ত্রণে মস্কোর পরিকল্পনার জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে রুশপন্থী পূর্বাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের সঙ্গে ক্রিমিয়ার সংযোগ স্থাপন করা যাবে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া। এ ছাড়া ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে মলদোভায় রুশপন্থী ত্রান্সনিস্ত্রিয়া এলাকায়ও যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাশাপাশি উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ—তিন দিক থেকে স্থল অভিযানও শুরু করে রুশ বাহিনী। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে উত্তর দিক থেকে সেনা সরিয়ে তারা পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে হামলা জোরদার করে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন