মারিউপোলে উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই ‘অতি শক্তিশালী’ বোমা বিস্ফোরণ

মঙ্গলবার মারিউপোল শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়
ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের বন্দর শহর মারিউপোলে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দুটি ‘অতি শক্তিশালী বোমা’ বিস্ফোরিত হয়েছে। রুশ সেনাদের দখলে থাকা এ শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে তৎপরতা চলার মধ্যেই এ হামলা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের চতুর্থ সপ্তাহ চলছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা মারিউপোলের। দফায় দফায় বোমা হামলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সেখানে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ শহরটিতে দুই লাখের বেশি মানুষ আটকে পড়েছে। গতকাল শহরটি থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। এদিন এক ভিডিও বার্তায় উপপ্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক বলেন, মঙ্গলবার সবাইকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না, তবে সব অধিবাসীকে মারিউপোল থেকে বের করে নেওয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

মারিউপোলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, মঙ্গলবার এ উদ্ধার তৎপরতা চলার মধ্যেই দুটি অতি শক্তিশালী বোমার আঘাত হয়। তবে এ ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেনি তারা।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, দখলদারেরা যে মারিউপোল শহরের ব্যাপারে আগ্রহী নয়, তা পরিষ্কার। তাঁরা এটিকে একেবারে ধূলিসাৎ করে দিতে চান, ছাই করে দিতে চান।ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্দরনগরী মারিউপোল। চলমান রুশ আগ্রাসনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর এটি। বর্তমানে শহরটি ঘিরে ফেলেছে রুশ বাহিনী। শহরের কেন্দ্রস্থলেও পৌঁছে গেছে তারা। আজভ সাগর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে ইউক্রেনকে। মারিউপোলে গত সোমবার সকালের মধ্যে রাশিয়া অস্ত্র সমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি ইউক্রেনীয় বাহিনী।

ইউক্রেনের ন্যাটো জোটে যোগদানের পদক্ষেপকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ঘোষণা করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে হামলা শুরু করে রাশিয়া। শুরুতে অনড় মনোভাব দেখালেও পরে ন্যাটো জোটে যোগদান করার বিষয়ে সুর নরম করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে যুদ্ধ বন্ধে ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড আর দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার নতুন শর্ত জুড়ে দেয় মস্কো।

এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনায় বসেছেন। তবে এতে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে নিজের আগ্রহের কথা বারবার বলে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।