বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ ও রেডক্রসের তৎপরতায় শুরু হওয়া ইস্পাত কারখানাটিতে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের পুরোপুরি সরিয়ে না নিতেই কারখানায় হামলা জোরদার করেছেন রুশ সেনারা। এখন কারখানা দখল নিয়েই জোর লড়াই চলছে। ইউক্রেন বলছে, দুই শর মতো বেসামরিক নাগরিকসহ ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো ভূগর্ভস্থ বাংকারে আটকে আছেন।

ইউক্রেনের আইনপ্রেণতা ইন্না সোভসান বলেছেন, লড়াই অব্যাহত রয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে আজভস্তালে রাশিয়ার হামলা থামেনি।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে জানিয়েছে, কারখানার ভেতর অবস্থান নেওয়া বাকি ইউক্রেনীয় সেনাদের পুরোপুরি ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া।

আজভস্তালের ভেতরে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা রুশ সেনাদের সঙ্গে ‘কঠিন, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে’ লিপ্ত জানিয়েছেন আজভ রেজিমেন্টের এক কমান্ডার ডেনিস প্রোকোপেঙ্কো।
ইন্না জানিয়েছেন, রুশ সেনারা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেছেন। রুশ সেনারা অবশ্য জানিয়েছেন, আজ দিনের বেলা তাঁরা আবার বেসামরিক নাগরিকদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কারখানায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জাতিসংঘের সাহায্য চেয়ে বলেছেন, ‘এখনো সেখানে যাঁরা আটকে পড়ে আছেন তাঁদের জীবন বিপন্ন। সবার জীবন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাঁদের রক্ষা করতে আপনার (জাতিসংঘ মহাসচিব) সাহায্য চাচ্ছি।’

এর আগে ইস্পাত কারখানা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের বেরিয়ে যাওয়া জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে মস্কো। আজ থেকে ৭ মে পর্যন্ত গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৫টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছে মস্কো।

এদিকে গত মঙ্গলবার রুশ সেনারা ইউক্রেননিয়ন্ত্রিত শহর জাপোরিঝিয়ায় পৌঁছান। এই দলের একজন তেতিয়ানা ত্রোতস্তক রয়টার্সকে বলেন, ‘বাংকারে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের গোলা থেকে রক্ষা করুন ঈশ্বর।’

কৃষ্ণসাগরের সঙ্গে ইউক্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য মারিউপোলের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ মস্কোর জন্য জরুরি। এ ছাড়া রুশনিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ ও পূর্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও মারিউপোল গুরুত্বপূর্ণ।

default-image

‘পুতিনকে অবশ্যই মূল্য চুকাতে হবে’

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আরও চাপে ফেলতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। প্রস্তাবে ইইউ জানায়, রাশিয়া থেকে ছয় মাস অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রাখা হোক।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইইউ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘পুতিনকে অবশ্যই এই নিষ্ঠুর আগ্রাসনের জন্য বড় মূল্য চুকাতে হবে।’
অন্যদিকে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জাহাজে আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু।

মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রুশ সেনারা ছয়টি রেলস্টেশন অচল করে দিয়েছেন। এই স্টেশনগুলো দিয়েই পশ্চিমা অস্ত্র ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে পৌঁছাত বলে দাবি রাশিয়ার।

default-image

এ ছাড়া আজ এক বিবৃতিতে রাশিয়া জানায়, ইউক্রেনে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রুশ হামলায় ছয় শতাধিক মানুষ মারা গেছে। এ ছাড়া ৬১ ইউনিট গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করে মস্কো। তবে রাশিয়ার এই দাবির ব্যাপারে কিয়েভের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

রুশ জেনারেলকে হত্যা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পেয়েছিল ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রুশ জেনারেলকে হত্যার সুযোগ পায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এসব কথা জানিয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাঁরা যুদ্ধের সম্মুখসারিতে প্রায় ১২ জন রুশ জেনারেলকে হত্যা করেছেন।

কীভাবে রুশ সেনাদের সদর দপ্তর থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে যুদ্ধের পুরো সময়টাতে গোপন ও বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে রুশ সেনাদের চলাফেরার তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন উৎসকে কাজে লাগায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন এফ কিরবি বলেন, ‘আমরা এসব তথ্যের বিস্তারিত নিয়ে কথা বলব না।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সাধারণ তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে, যাতে তারা নিজেদের রক্ষায় তা কাজে লাগাতে পারে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন