বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগোর কোনাশেঙ্কোভ বলেন, মারিউপোলের শহর অঞ্চল রুশ সেনারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। আজভস্তাল ইস্পাত কারখানা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে অল্পসংখ্যক ইউক্রেনের সেনা রয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার মধ্যে আজভস্তাল ইস্পাত কারখানা ছাড়তে হবে।

ইগোর কোনাশেঙ্কোভ দাবি করেন, ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪৬৪ জন ইউক্রেনের সেনা আত্মসমর্পণ করেছেন। এখন ইউক্রেনের অবরুদ্ধ সেনারা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যান, তবে তাঁদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। আর আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে রুশ বাহিনী।

ইউক্রেনের পূর্ব দিকে রুশপন্থী অধ্যুষিত অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের মাঝে মারিউপোলের অবস্থান, এর দক্ষিণে ক্রিমিয়া। এ শহর কৌশলগতভাবে রাশিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার পর কিয়েভের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মারিউপোলের পরিস্থিতি বেশ জটিল। আমাদের সেনারা সেখানে অবরুদ্ধ রয়েছে। আহতদেরও অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। এটা মানবিক সংকট।’

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী মারিউপোলে যদি ইউক্রেনের সেনাদের অবরুদ্ধ অবস্থায় রুশ সেনারা হত্যা করেন, তাহলে চলমান শান্তি আলোচনা থেকে আলোচকদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়া সেখানে যা করছে, তাতে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৩ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মারিউপোলে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি।

এদিকে আজ সকালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়েভসহ পুরো ইউক্রেনেই বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। তবে কিয়েভে বিস্ফোরণের কারণ জানাতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন