বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘অ্যান্ড্রু মার শো’ নামে বিবিসির অনুষ্ঠানে শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, বিয়ের বিরুদ্ধে নয়, বিয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি।
উপস্থাপক মালালাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি তো বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন, কী কারণে আপনার অবস্থান বদলাল?’ মালালা বলেন, ‘আমি তো বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলাম না, বিয়ে নিয়ে আমার উদ্বেগ ছিল। এটা সত্য যে বাল্যবিবাহ, বিচ্ছেদ ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা দেখা বিশ্বের অসংখ্য মেয়ের মধ্যে এ উদ্বেগ রয়েছে।’

বিয়ে প্রসঙ্গে মালালা আরও বলেন, ‘বিয়েতে একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারীকে অনেক বেশি আপস করতে হয়। পিতৃতন্ত্র ও স্ত্রী বিদ্বেষের কারণে এসব প্রথা তৈরি হয়েছে। এসব মানিয়ে নিয়েই নারীদের জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তাই আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি অবশ্যই এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।’

বিবিসির ওই অনুষ্ঠানে ২৪ বছর বয়সী পাকিস্তানি নারী অধিকারকর্মী মালালা আরও বলেন, ‘আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে আমি এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছি, যিনি আমাকে বোঝেন। আমার এসব মূল্যবোধ সম্পর্কে অবগত, আমার রসবোধ বোঝেন। এ ছাড়া আমাদের দুজনের মধ্যে আরও অনেক কিছুতেই মিল রয়েছে।’

এর আগে ১১ নভেম্বর ভোগে মালালার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ওই নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘নিজের ভাষায় মালালার বিয়ে’। সেখানে মালালা বিয়ে নিয়ে বলেন, ‘আমি একজন সেরা বন্ধু ও সঙ্গী খুঁজে পেয়েছি।’ তাঁর ভাষ্য, এবার সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিয়েকে দেখেছেন তিনি।

মালালা লেখেন, ‘বিয়ের বিরুদ্ধে নয়, আমি প্রথাটি নিয়ে সতর্ক ছিলাম। পুরুষতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। পাশাপাশি বিয়ের পর নারীদের যে নানা বিষয়ে আপসের প্রস্তুতি নিতে হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিয়েসংক্রান্ত আইনগুলোতে সাংস্কৃতিক প্রথা ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে কথা বলেছিলাম।’

মালালা আরও লেখেন, বিয়ে তাঁর কাছে স্বাধীনতা, নারীত্ব এবং মানবিক অধিকার হারানোর মতো একটি বিষয় ছিল। তাঁর এ দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে ছিল পাকিস্তানে কাটানো তাঁর শৈশব। দেশটিতে বিয়েকে মেয়েদের কাছে ‘দাসত্ব’ হিসেবে পরিচয় করানো হয়।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন