default-image

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সবাইকে আগামী কয়েক বছর মুখে মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় একজন মহামারি বিশেষজ্ঞ এ রকমই মনে করছেন।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের ইমিউনাইজেশনের প্রধান ম্যারি রামসি বলেছেন, অন্যান্য দেশ সফলভাবে টিকা না দেওয়া পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার মূল বিষয়গুলো মেনে চলতে হতে পারে।

ম্যারি রামসি আরও বলেন, জনাকীর্ণ জায়গাগুলোতে মুখ ঢেকে রাখা এবং দূরত্ব বজায় রেখে চলা অনেকেই মেনে নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতিও সচল রয়েছে।
রামসির মতে, আগামী কয়েক বছর অন্তত বিশ্বের অন্যান্য অংশে যত দিন তাদের মতো টিকাদান না হবে এবং আক্রান্তের সংখ্যা সব জায়গায় কমে না আসবে, সেই সময় পর্যন্ত এসব নিয়েই চলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ড. রামসি বলেন, যে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তা অরক্ষিত লোকজনকে আক্রমণ করবেই। তাই শিগগির এই সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না। সে কারণে এসব বিধিনিষেধের কোনোটি তোলার আগে অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার প্যাট্রিক ভ্যাল্যান্সও বলেছেন, সংক্রমণ বাড়লে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাস্ক পরা দরকার হতে পারে। আর মানুষ এমনিতেই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাফেরা করবে বলেই তিনি মনে করছেন।

ব্রিটিশ সরকারের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টাদের একটি দল গত মাসে বলেছে, আরও বেশ কিছু দিনের জন্য সংক্রমণ কমিয়ে রাখার মতো নীতিগুলো মেনে চলতে হতে পারে।
পরীক্ষা ও ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধান, স্বেচ্ছা আইসোলেশন এবং ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য বার্তা পাঠানোর মতো বিষয়গুলো এর মধ্য থাকবে বলে মনে করেন তাঁরা।

ইংল্যান্ডে লকডাউন শিথিলের যে রূপরেখা দেশটির সরকার করেছে, তাতে আগামী ২১ জুনের আগে সামাজিক যোগাযোগে আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় বিধিনিষেধ শিথিলে ঘরের বাইরে ছয়জন পর্যন্ত মিলিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

খোলা মাঠে খেলাধুলার সুযোগ এবং অবকাশ কেন্দ্রগুলোও পুনরায় চালু করা হবে। ঘরের বাইরে অভিভাবক ও শিশুদেরও মিলিত হওয়ার সুযোগ আসছে। তবে সর্বোচ্চ ১৫ জন পর্যন্ত সমবেত হওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

স্কটল্যান্ডে উপাসনালয় খুলছে ২৬ মার্চ। ওয়েলসে সোমবার থেকে সুপারমার্কেটগুলোতে জরুরি পণ্যের বাইরের পণ্যেরও বিক্রি শুরু হচ্ছে। খুলছে গার্ডেন সেন্টারগুলো। আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ১ এপ্রিল থেকে পারিবারিক গার্ডেনে দুই পরিবারের ছয়জনের মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

৬ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের দেশ যুক্তরাজ্যে এরই মধ্যে ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। আর ২০ লাখের বেশি মানুষকে টিকার দ্বিতীয় ডোজও দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন