বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। এরপর অভ্যুত্থানবিরোধী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১৬ এপ্রিল সু চিকে স্টেট কাউন্সেলর করে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করেন। এই সরকার মূলত দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এবং নির্বাসিত থেকে কাজ করছে। ফ্রান্সের সিনেটে প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে এই প্রথম কোনো দেশের পার্লামেন্ট মিয়ানমারের বিকল্প সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

প্রস্তাবটির অন্যতম প্রস্তাবক সিনেটর জোয়েল গুয়েখিও টুইট করেছেন, মিয়ানমারের সংকট নিরসনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রস্তাবে ফ্রান্সের সংবিধানের ৩৪-১ ধারা এবং পার্লামেন্টের কার্যপ্রণালি বিধির ১৩৬ ধারা অনুসরণ করে মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থান পরিস্থিতি এবং রাজনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, ধর্মীয় নেতা ও বিদেশি নাগরিকদের নিবর্তনমূলক আটক এবং গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের বিষয়টিকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটিতে সামগ্রিকভাবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত জি-৭ জোটভুক্ত দেশের নিন্দা জ্ঞাপন এবং মিয়ানমারের সংকট নিরসনে আসিয়ানের ভূমিকা এবং জাতীয় ঐক্যের সরকারের তৎপরতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নতুন প্রস্তাব
এদিকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে গত মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ ডব্লিউ মিকস, পররাষ্ট্রবিষয়ক এশিয়া-প্যাসিফিক উপকমিটির র‌্যাঙ্কিং সদস্য স্টিভ শ্যাবট ও সিনেটর বেঞ্জামিন এল কার্ডি ‘বার্মা অ্যাক্ট’ নামের ওই প্রস্তাব পেশ করেন।

প্রস্তাবকেরা বলেছেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান এবং চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘বার্মা অ্যাক্ট’ উত্থাপন করেছেন তাঁরা।

প্রস্তাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের পাশাপাশি তাদের সহযোগী ও আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাইডেন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়ন এবং বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গও এসেছে। রোহিঙ্গা নিপীড়ন ‘গণহত্যা’ কি না, তা বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও আশপাশের দেশগুলোতে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করে এমন নাগরিক সংগঠনগুলোকে সহায়তার পাশাপাশি মিয়ানমারে পরিবর্তনের জন্য মার্কিন প্রশাসনকে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বানও জানানো হয়।

কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ ডব্লিউ মিকস গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের পর আট মাস পেরিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সহিংসতা বন্ধ, অন্যায়ভাবে আটক করা ব্যক্তিদের মুক্তি এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা শুরু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এনইউজির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

মিয়ানমারের সংকট নিরসনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের যে উদ্যোগ, তাতে সহায়তা দিচ্ছে না দেশটির সামরিক সরকার। বিশেষ করে মিয়ানমারবিষয়ক আসিয়ানের দূতকে মিয়ানমার সহযোগিতা না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে বলেছেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটির পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করতে আসিয়ানকে সহযোগিতা করছে না। এ বিষয়ে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গত সোমবারের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা প্রয়োজনে মিয়ানমারের ‘জাতীয় ঐক্যের সরকারের’ সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন