রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগোর কোনাশেঙ্কোভ স্থানীয় সময় আজ শনিবার বলেছেন, রুশ বিমানবাহিনী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে রাতারাতি ইউক্রেনের ১৬টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হামলার শিকার ১৬টি সামরিক স্থাপনার মধ্যে ওডেসা অঞ্চলের পোভস্তানস্কো গ্রামে ইউক্রেনের সামরিক যানের ১১টি সংরক্ষণাগারও রয়েছে।

কোনাশঙ্কোভ জানান, রুশ সেনারা ইউক্রেনের নিকোলেইভ শহরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলার দুটি গুদাম ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া পোলতাভা শহরের দক্ষিণ-পূর্বে রাডার ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের সরঞ্জামের গুদাম, পোলতাভা শহরের দক্ষিণে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং গুসারভকা গ্রামে বিমানবাহিনীর ৯৫তম ব্রিগেডের ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি ট্যাংক তৈরির কারখানা এবং নিকোলেইভের সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের জন্য একটি ওয়ার্কশপও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

default-image

গত বৃহস্পতিবার কৃষ্ণসাগরে ডুবে যায় রাশিয়ার নৌবহরে থাকা যুদ্ধজাহাজ মস্কোভা। সোভিয়েত আমলে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজ রুশ বাহিনীর শৌর্যের প্রতীক। রাশিয়া বলেছে, জাহাজটিতে আগুন লাগে। পরে সেটি তীরের দিকে টেনে নেওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। তবে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ বলছে, জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তারা।

রাশিয়ার রাজধানীর মস্কোর সঙ্গে মিল রেখে যুদ্ধজাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মস্কোভা’। কৃষ্ণসাগরে রুশ নৌবহরের গর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হতো যুদ্ধজাহাজটিকে। সোভিয়েত আমলে নির্মিত এই যুদ্ধজাহাজ জর্জিয়া ও সিরিয়া যুদ্ধের পর ইউক্রেন যুদ্ধেও ভূমিকা রাখছিল। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের সময়ও জাহাজটির তত্পরতা দেখা গেছে। শান্তিপূর্ণ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও সহায়তা করেছে এই যুদ্ধজাহাজ।

যুদ্ধজাহাজডুবির পর গতকাল শুক্রবার ইউক্রেনে হামলা তীব্রতর করার হুমকি দেয় রাশিয়া। রাশিয়ার এ হুমকি ভাবনায় ফেলেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে। রাশিয়া পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে বলে আবারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে। বিশ্বকে এ জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের তথ্যমতে, রাশিয়ার সঙ্গে সাত সপ্তাহের যুদ্ধে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার সেনা। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে হতাহত হওয়ার এ সংখ্যা জানিয়েছেন তিনি।

জেলেনস্কি দাবি করেছেন, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার থেকে ২০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। তবে গত মাসে মস্কো বলেছে, চলমান যুদ্ধে ১ হাজার ৩৫১ রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮২৫ জন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন ও আল–জাজিরা

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন