default-image

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে যুদ্ধবিরতিতে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া সম্মত হলেও যুদ্ধ থামেনি। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান যুদ্ধবিরতির শর্ত দ্রুত এবং গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের জন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। এতে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় চুক্তি কতটা অর্থবহ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মস্কোয় ম্যারাথন আলোচনার পর দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে অনেক বছর ধরে বৈরী সম্পর্ক আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে। পার্বত্য অঞ্চল নাগরনো-কারাবাখ সোভিয়েত আমলে আজারবাইজানের অংশ ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এক যুদ্ধে আর্মেনিয়ার সহায়তায় জাতিগত আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অঞ্চলটি দখল করে নেয়। দুই দেশের সীমান্তে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর পরিস্থিতি যুদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়। লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষসহ ৪০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আর্মেনিয়ায় রাশিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং উভয়ই সম্মিলিত সুরক্ষা চুক্তি সংস্থা (সিএসটিও) জোটের সদস্য। আর আজারবাইজানের সঙ্গে মস্কোরও সুসম্পর্ক রয়েছে।

বিবদমান পাহাড়ি ওই অঞ্চল নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর লড়াই শুরুর পর সংঘাত বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে মস্কোতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘ এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতিতে আলোচনায় অংশ নেন আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন ও আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহরাব এমনাতসাকানিয়ান।

মধ্যাহ্ন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই উভয় পক্ষ শর্ত ভাঙার অভিযোগ করেছে। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তর আজারবাইজানের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যন্তরে গোলা ছোড়ার অভিযোগ এনেছে। আজারবাইজানের পক্ষ থেকেও তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলে গোলা নিক্ষেপের অভিযোগ করা হয়েছে। দুই পক্ষই গোলার আঘাতে বেসামরিক লোকজন নিহত হওয়ার অভিযোগ করেছে।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের এক বক্তব্যে এ যুদ্ধবিরতি টিকে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি বলেছেন, সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে বিবদমান পক্ষগুলো এখন আলোচনা শুরু করছে।

এর আগে জেনেভায় ফ্রান্স, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা সমস্যা সমাধানের প্রথম প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে তাদের সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দুই দেশ। এরপর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে আলোচনার উদ্যোগ নেন।

মন্তব্য পড়ুন 0