পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত বন্ধে চুক্তির এক দিন যেতে না যেতেই দেশটির পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক ও লুহাননস্ক নগরে নতুন করে গোলাবর্ষণ হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য ওই চুক্তি আগামীকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। খবর এএফপির।

মস্কোপন্থী বিদ্রোহীরা আজ শুক্রবার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গোলাবর্ষণে অন্তত সাতজন সাধারণ মানুষ মারা গেছে। আর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দাবি, এ সময় তাদের অন্তত ৮ সেনা প্রাণ হারান।
সংঘর্ষে রাশিয়া মদদ দেওয়া বন্ধ না করলে মস্কোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার হুমকি দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে সেই হুমকিতে রাশিয়া দৃশ্যত তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে দীর্ঘ বৈঠক শেষে রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সই করে। এরপর বিদ্রোহী ও কিয়েভ একটি শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হয়। ওই চুক্তির ফলে ১০ মাস ধরে চলতে থাকা সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু আজকের গোলাগুলির ফলে দীর্ঘ আলোচনার পর স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
এদিকে গত বছরের জুন থেকে রাশিয়ার কারাগারে আটক থাকা ইউক্রেনের সামরিক বিমানবাহিনীর পাইলট নাদিয়া শেভচেঙ্কোর মুক্তির ব্যাপারে কোনো চুক্তি হয়নি বলে জানিয়েছে রাশিয়া। তিনি ৬৩ দিন ধরে অনশন করছেন।

গতকাল স্বাক্ষর হওয়া চুক্তিতে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি বন্দী বিনিময়ের কথাও রয়েছে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেন, তাঁর বিষয়টি আদালতই নির্ধারণ করবেন।

১০ মাস ধরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী বিদ্রোহী ও ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। বিদ্রোহীদের পুতিন সরকার অস্ত্র ও সেনা দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে বলে ইউক্রেন সরকার ও ন্যাটো অভিযোগ করে আসছে। তবে রাশিয়া তা অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের এ যুদ্ধে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন