default-image

জানুয়ারিতে ফ্রান্সের প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর পশ্চিমা বিশ্বের অনেকেই মনে করছেন, ইসলামের সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু কোনো ধর্মের সংস্কার করা সহজ কাজ নয়। কোনো ধর্মের মানুষই এমন পদক্ষেপকে সহজে মেনে নেন না। প্যারিসে যাদের নির্দেশে হামলা হয়েছে, সেসব নেতাও নিজেদের ইসলামের সংস্কারবাদী বলে মনে করেন। তাঁদের ধারণা, যাঁরা ধর্মের মূল ধারা থেকে সরে গেছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনতেই তাঁরা কাজ করছেন।
ইসলামপন্থী এসব হামলাকারী নিজেদের জিহাদি বলে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করে থাকেন।
লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর থেকে আধুনিক জিহাদিদের উত্থান শুরু। ওই সময় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মদদে জিহাদিরা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য করে। এরপর নতুন লক্ষ্য হিসেবে তারা সেই যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যকেই বেছে নেয়।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে হামলার মধ্য দিয়ে নতুন ধরনের এক তৎপরতা শুরু হয়। পরে তা আফগানিস্তান, ইরাক ও ইরানে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শে অনুপ্রাণিত ও হতাশাগ্রস্ত যুবকদের দিয়ে লোকবল তৈরিতে বেগ পেতে হয়নি। এতে ওই যুবকদের হতাশা যে কমেছে, তা নয়। বরং বিশ্বব্যাপী তা আরও বেড়েছে। গত জানুয়ারির দিকে তাকালেই আমরা দেখতে পাই, প্যারিসে ১৭ জন ছাড়াও বিশ্বব্যাপী শতাধিক মানুষ নৃশংসতার শিকার হয়েছে।

অনেকের মতে, জঙ্গি সংগঠন আইএস এখন আল কায়েদার চেয়েও দাঙ্গাবাজ। আইএস ইসলামের অগ্রদূতদের মতাদর্শের কথা বলে, কিন্তু যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, সেখানে সেই ইসলামি আদর্শের প্রতিফলন পাওয়া যায় না। এমনকি আল-কায়েদাও তাদের নৃশংসতার সমালোচনা করেছে। আর যদিও তাদের নেতারা পশ্চিমাদের হত্যার কথা বলছে, কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য হলো ওই অঞ্চলে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা।

তবে সম্প্রতি বুদ্ধিজীবীরা ইসলামের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো তুলে ধরে তাঁদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। এতে হয়তো বর্তমান বিশ্বের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো কোনো পথ বের হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার মতো কিছু দেশে ইসলামের সহনশীলতার অনুশীলন চলছে। আবার মিসরের জনগণ মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো দলকে প্রত্যাখ্যানের উদাহরণও রয়েছে। তবে বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজ সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আরও মুক্ত হলেই জিহাদি মতবাদের বিস্তারের পেছনের কারণগুলো বের হয়ে আসবে। তবে হতাশার কথা হলো, কোনো আরব নেতাই সে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন