ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ঘটনায় ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোকে তাই প্রতিরক্ষা নীতিমালা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আসন্ন রুশ আক্রমণের ভয়ে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্ক শহর থেকে পুনরায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। এর আগের দিন শুক্রবার ক্রামাতোরস্কের একটি রেলস্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫২ জন নিহত হয়। এরপর থেকেই পশ্চিমা নেতারা কিয়েভ সফর শুরু করেছেন।

সর্বশেষ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গতকাল কিয়েভ সফর করে রুশ সেনাদের মোকাবিলায় ইউক্রেনীয়দের তৎপরতার প্রশংসা করেন। তিনি ইউক্রেনকে আরও যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানানোর পরপরই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক বলেন, ইউক্রেনের নেতা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠকের আগে অবশ্যই পূর্ব দনবাস অঞ্চলে রাশিয়াকে পরাজিত করতে হবে। দনবাসে মস্কোর নিয়ন্ত্রণে দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল রয়েছে। ইউক্রেন বড় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। দনবাসসহ বড় লড়াইয়ে ইউক্রেনকে জিততে হবে। জিতে গেলে আলোচনার জন্য আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে ইউক্রেন।

ইউক্রেনে রুশ হামলার ছয় সপ্তাহ পার হয়েছে। কিয়েভ থেকে নজর সরিয়ে মস্কো এখন পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে হামলা নিয়ে নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে কিয়েভের কাছাকাছি বুজোভা নামের একটি গ্রামে গণকবর পাওয়া গেছে। ওই শহরটি কয়েক সপ্তাহ রুশ সেনাদের দখলে ছিল। তবে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। এর আগে বুচা শহরে এ ধরনের গণকবর পাওয়ার কথা বলে কিয়েভ।