default-image

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগের অভিযোগে রাশিয়ার কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মস্কো। পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে রাশিয়া বলেছে, আগুন নিয়ে খেলবেন না।

গতকাল মঙ্গলবার নাভালনির বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নতুন করে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের ওপর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে ক্রেমলিন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচক নাভালনির ওপর বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল গত বছরের ২০ আগস্ট। এর ফলে সাইবেরিয়া থেকে আকাশপথে মস্কো যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন নাভালনি। তাঁকে মস্কো শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে জার্মানিতে নেওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। পরে জার্মান সরকার জানায়, নাভালনির ওপর নোভিচক গ্রুপের নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়েছিল। যদিও রাশিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১৭ জানুয়ারি জার্মানি থেকে সুস্থ হয়ে মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে নামার পর ৪৪ বছর বয়সী নাভালনিকে আটক করে রুশ পুলিশ। পরে তাঁকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেয় রুশ কর্তৃপক্ষ। এরপর এক রায়ে নাভালনির আড়াই বছরের জেল হয়।
রাশিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে মস্কো ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালের পর সম্পর্কে আরও বড় চিড় ধরবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আজ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কারণ, ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি তারা করে ফেলেছে।’
দিমিত্রি পেসকভ নতুন এ নিষেধাজ্ঞাকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। অবশ্য ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে তিনি কিছু বলেননি।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের মন্তব্য দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যের অনুরূপ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা এর আগে পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া এর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’ রাশিয়া এর প্রতিক্রিয়া তৈরির কাজ করছে।

গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধের যে ঘোষণা আসে, তা মূলত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কঠোর অবস্থানের প্রতিচ্ছবি।
বাইডেন প্রশাসন যাঁদের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাঁদের মধ্যে দেশটির নিরাপত্তা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা আছেন। এর মধ্যে ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) প্রধান আলেকজান্ডার বোর্টনিকভও রয়েছেন।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে নাভালনিকে বিষপ্রয়োগের বিষয়টি আবার অস্বীকার করা হয়েছে। পেসকভ দাবি করেছেন, রাশিয়ার বা এফএসবির এর সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এর আগে নাভালনি অভিযোগ করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই এফএসবি তাঁকে বিষ প্রয়োগ করে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া।

ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে নাভালনির তাৎক্ষণিক মুক্তির দাবি করা হচ্ছে। গত সোমবার অ্যালেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তাঁকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ারও দাবি তুলেছে জাতিসংঘ।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন