default-image

রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মুক্তির দাবিতে তাঁর সমর্থকেরা আজ রোববার ফের দেশটির রাজপথে নামছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

আজ দ্বিতীয় দফায় রাজধানী মস্কোসহ রাশিয়াজুড়ে নাভালনি-সমর্থকদের বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। মারধর, ধরপাকড়, হুমকি সত্ত্বেও তাঁরা বিক্ষোভে শামিল হতে যাচ্ছেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচি সামনে রেখে মস্কোয় মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া রাজধানীতে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

২৩ জানুয়ারি নাভালনি-সমর্থকেরা রাশিয়াজুড়ে প্রথম দফায় বিক্ষোভ করেন। সেদিন নাভালনির ডাকে হাজারো বিক্ষোভকারী রাশিয়ার রাজপথে নামেন। রাজধানী মস্কোসহ দেশটির অন্তত ১০০টি শহর-নগরে এই বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকালে চার হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন
default-image

গত সপ্তাহের পর আজ দ্বিতীয় দফায় রাশিয়াজুড়ে বিক্ষোভের কর্মসূচি পালন করবেন নাভালনি-সমর্থকেরা।

দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ সামনে রেখে রুশ পুলিশ নাভালনির বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে আটক করেছে। একই সঙ্গে তারা নাভালনির সমর্থকদের বিক্ষোভের ব্যাপারে সতর্ক করেছে।

রুশ পুলিশ বলেছে, রোববার যে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা অনুমোদিত নয়। এদিন বিক্ষোভ করা হলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। অবৈধ কর্মসূচির বিরুদ্ধে গত সপ্তাহের মতো এবারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে রুশ পুলিশ বলেছে, এই ধরনের বিক্ষোভ করোনা ছড়াতে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আজ মস্কোর সাতটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে। রাজধানীতে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, আজ মস্কোয় রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এদিকে মস্কোয় কারাগারেও জায়গা নেই বলে খবর বেরিয়েছে। ফলে বিক্ষোভকালে গণহারে আটক ব্যক্তিদের কারাগারে রাখা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নাভালনি তাঁর আটকাদেশকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁকে মুক্তি দিতে মস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পশ্চিমারা। এদিকে রাশিয়ার ৩৫ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাভালনির সহযোগীরা। এই ৩৫ কর্মকর্তা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে দাবি নাভালনির সহযোগীদের।

গত বছরের আগস্টে সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে উড়োজাহাজে করে মস্কোয় ফেরার সময় নাভালনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ সাইবেরিয়ার ওমস্কে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার একটি হাসপাতালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন।

পরে জার্মানির বিশেষজ্ঞরা জানান, নাভালনিকে রাশিয়ান নার্ভ এজেন্ট ‘নোভিচক’ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিষ প্রয়োগের জন্য পুতিনকে দায়ী করেন নাভালনি। তবে পুতিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

১৭ জানুয়ারি জার্মানি থেকে রাশিয়ায় ফেরেন নাভালনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন