default-image

‘আমরা অস্বীকার করছি না’

রাশিয়ার মতো অনেক বড় একটি দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারখানা বা ভবনে আগুন লাগা তেমন কোনো ভ্রু-কুঁচকানোর মতো ব্যাপার নয়। কিন্তু ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর এসব ঘটনার অর্থ বদলে গেছে। রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর থেকে এক ডজনের বেশি আগুন লাগার কথা জানা গেছে। তাই গত মাসে রাশিয়ার পূর্বে ভ্লাদিভস্তক শহরের উত্তরের বিমানঘাঁটি ও সাখালিন দ্বীপের কয়লা খনিতে আগুন নাশকতার সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, গত বুধবার মস্কোর পূর্ব পাশে দিজারিজস্কে রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর ইউক্রেনের একজন রেস গাড়িচালক বলেন, ‘রাশিয়ার নাশকতাকারীরা পুতিনের বিরুদ্ধে তাদের ঐতিহাসিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ এই চালক রাশিয়ার ভেতর বিভিন্ন নাশকতার ঘটনার ছবি ও ভিডিও নিয়মিত টুইটারে পোস্ট করেন। তবে এসব অগ্নিকাণ্ড যে পরিকল্পিত নাশকতা, সে বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

জেলেনস্কির আরেকজন উপদেষ্টা ওলেক্সি আরেস্তোভিচও মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইসরায়েল কখনোই তার গোপন হামলা বা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে না। ‘আমরা স্বীকার করছি না, অস্বীকারও করছি না।’

default-image

পরিকল্পনার অংশ?

সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রিয়ানস্কের ইউরোপের তেল সরবরাহ পরিষেবায় হামলা ইচ্ছাকৃত এবং এটা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

‘ইউক্রেন ওয়েপন ট্র্যাকার’ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ আছে যে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা থেকেই ব্রিয়ানস্কে আগুন লেগেছে।

আরেকজন বিশেষজ্ঞ রব লি গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা ছিল ইউক্রেনের হামলা। তবে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই।’

এ ছাড়া ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছে রাশিয়ার বেলগোরোদ ও কুরস্ক শহরে হামলা হয়। ১ এপ্রিল বেলগোরোদের জ্বালানি ডিপো হামলার পর শহরের গভর্নর হামলার জন্য ইউক্রেনের সেনাদের হেলিকপ্টার হামলাকে দায়ী করেন।

সমর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফিলিস ও’ব্রায়েন বলেন, ‘রাশিয়ার কৌশলগত বা সামরিক স্থাপনায় অনেক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এটা এসব হামলা ইউক্রেনিয়ান নাশকতা, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।’

স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক আরও বলেন, এসব হামলা ‘নিশ্চিতভাবেই তাঁদের পরিকল্পনার অংশ’।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন