default-image

রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সেন্ট পিটার্সবার্গের কার্যালয়ে আজ বুধবার তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। সেখান থেকে নাভালনির শীর্ষ সহযোগী লুবভ সোবোলকে আটক করা হয়েছে। নাভালনির সমর্থনে আজ রাশিয়াজুড়ে বিক্ষোভের আগে এই ঘটনা ঘটল। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

রাশিয়ার স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা ওভিডি-ইনফো আজ জানিয়েছে, রুশ পুলিশ দেশটির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়েছে। তারা অন্তত ২০ জন রাজনৈতিক কর্মীকে আটক করেছে বলে তথ্য পেয়েছে ওভিডি-ইনফো।

নাভালনির সহযোগীরা তাঁর সমর্থনে আজ রাশিয়ায় ১০০টির বেশি শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন। অতীতের মতোই বিক্ষোভ ভন্ডুল করতে আগেভাগে তৎপরতা চালাচ্ছে রুশ পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

কারাবন্দী নাভালনির সঙ্গে অবিলম্বে স্বাধীন চিকিৎসকদের সাক্ষাতের অনুমতি দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র এই আহ্বান জানায়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বাধীন চিকিৎসকেরা যাতে অবিলম্বে নাভালনিকে দেখতে পারেন, সে জন্য অনুমতি দিতে রাশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

কারাবন্দী নাভালনির স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ দায়ী বলেও মন্তব্য করেন নেড প্রাইস।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, নাভালনির অবস্থার প্রেক্ষাপটে, মানবাধিকারের স্বার্থে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে, করণীয় বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নীতিগত ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

নেড প্রাইসের এই বক্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান গত রোববার রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জো বাইডেন সরকার রাশিয়াকে বলে দিয়েছে যে নাভালনি যদি কারাগারে মারা যান, তাহলে তার জন্য মস্কোকে পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাঁর মৃত্যু হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

৪৪ বছর বয়সী নাভালনি রাশিয়ার একজন সুপরিচিত বিরোধী নেতা। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নাভালনি বর্তমানে রাশিয়ায় কারাগারে আছেন।

নাভালনি গত ৩১ মার্চ থেকে কারাগারে অনশন শুরু করেন। পিঠে তীব্র ব্যথা ও পায়ের অসাড়তার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তিনি অনশনে যান। নাভালনির পরিবার, চিকিৎসক, আইনজীবী ও সহযোগীরা কিছুদিন ধরে বলে আসছেন যে তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাঁর অবস্থা এমন যে তিনি কয়েক দিনের মধ্যে মারা যেতে পারেন। নাভালনির স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করে। এমন প্রেক্ষাপটে নাভালনিকে গত সোমবার একটি কারা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রাশিয়ার কারা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্লাদিমির অঞ্চলের একটি কারাগারের বিশেষায়িত হাসপাতালে নাভালনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার মূল্যায়নের ফল সন্তোষজনক। নাভালনির সম্মতির ভিত্তিতে তাঁকে ভিটামিন থেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন

তবে নাভালনিকে ঠিক কী চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়েছে, চিকিৎসাপত্রে তাঁর সম্মতি আছে কি না, সে সম্পর্কে এই বিরোধী নেতার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বা প্রতিনিধিরা কিছুই জানেন না। নাভালনির সমর্থকেরা বলছেন, তাঁর অবস্থাসম্পর্কিত তথ্য কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছে গোপন করছে। এ ছাড়া যে কারা হাসপাতালে নাভালনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেটি গুরুতর অসুস্থ যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসার বিশেষায়িত হাসপাতাল।

নাভালনিকে গত বছরের আগস্টে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সময় তিনি সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে উড়োজাহাজে করে মস্কোয় ফিরছিলেন। যাত্রাপথে উড়োজাহাজেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ সাইবেরিয়ার ওমস্কে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন।

বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বরে জার্মানি জানায়, নাভালনিকে রাশিয়ান নার্ভ এজেন্ট ‘নোভিচক’ প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞরাও একই কথা বলেন। বিষ প্রয়োগের জন্য সরাসরি পুতিনকে দায়ী করেন নাভালনি। তবে পুতিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বানে ক্রেমলিন কর্ণপাত করেনি।

ক্রেমলিনের হুমকি উপেক্ষা করে গত ১৭ জানুয়ারি দেশে ফেরেন নাভালনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থ আত্মসাতের পুরোনো একটি মামলায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে নাভালনিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই দণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন নাভালনি।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন