রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক জেলার ডেপুটি কমান্ডার রুস্তম মিনেকায়েভ গতকাল শুক্রবার এক বৈঠকে বলেছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চল দখল করতে পারলে মলদোভায় রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ত্রান্সনিস্ত্রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

রুস্তম মিনেকায়েভকে উদ্ধৃত করে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের দনবাস দখলে নেওয়া গেলে ক্রিমিয়ার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য একটি সেতু তৈরি করা সম্ভব হবে। আর দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে এলে ত্রান্সনিস্ত্রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের পথ সুগম হবে। এতে রুশ–সমর্থিতদের সহায়তা করার পথও প্রশস্ত হবে।
মিনেকায়েভ বলেন, ত্রান্সনিস্ত্রিয়ায় রুশ ভাষাভাষী জনগণের ওপর নিপীড়ন করা হচ্ছে। ত্রান্সনিস্ত্রিয়া-সংলগ্ন ইউক্রেন সীমান্তে ১ হাজার ৫০০ রুশ সেনা রয়েছেন।

এদিকে রুশ কমান্ডারের এ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এ মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, রাশিয়া আরও দেশে আগ্রাসন চালাবে। ইউক্রেনে হামলা কেবলই সূচনামাত্র।

ত্রান্সনিস্ত্রিয়া মূলত রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে থাকা সরু ছোট ভূখণ্ড, যা মলদোভার পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া। অঞ্চলটি ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসার প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে পড়েছে।

এপ্রিলের শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ত্রান্সনিস্ত্রিয়া অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটি যুদ্ধজাহাজ ওঠানামার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এখান থেকে ইউক্রেনে হামলা করা হতে পারে। তবে মলদোভার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ত্রান্সনিস্ত্রিয়ার কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি তিন দিক থেকে স্থল অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে রাজধানী কিয়েভের আশপাশ ও উত্তর দিক থেকে সেনা সরিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন