বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেন যে মস্কভায় হামলা চালাতে যাচ্ছে, আগে থেকে তা জানত না যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। কেবল রুশ যুদ্ধজাহাজের হামলা থেকে দেশটিকে রক্ষায় সহায়তা করতে জাহাজ চলাচল-সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনকে দেওয়া হয় বলে তাঁরা জানান।

রুশ যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টি এর আগে সংবাদমাধ্যমে আসেনি। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কীভাবে কিয়েভের সাফল্য অর্জনে সহায়ক ছিল, গত মাসে এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে তা বিস্তারিত উঠে এসেছে। রুশ বাহিনীর ওপর হামলা পরিচালনা এবং রুশ হামলা এড়ানোর ক্ষেত্রে এসব গোয়েন্দা তথ্য কাজে দিয়েছে।

ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষুব্ধ হতে পারেন এবং অপ্রত্যাশিত পাল্টা জবাব দিতে পারেন।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর বহরের নেতৃত্বে ছিল মস্কভা। যুদ্ধজাহাজটি হারানো রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১২ হাজার ৪৯০ টনের মস্কভা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডুবে যাওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। সিরিয়ার যুদ্ধেও মিসাইল ক্রুজারটি মোতায়েন করেছিল রাশিয়া। মস্কভাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

মস্কভা ডুবে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ওই ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ হন আরও ২৭ নাবিক। বাকি ৩৯৬ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

মস্কভাডুবিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টি এমন সময় প্রকাশ্যে এল, যখন ইউক্রেন রুশ জেনারেলদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে রুশ জেনারেলদের হত্যার উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়টি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে।নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনকে দায়িত্বজ্ঞানহীন উল্লেখ করে সমালোচনাও করেছে হোয়াইট হাউস।

জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর ইউনিটগুলোর অবস্থান সম্পর্কে কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে এ যুদ্ধে নিহত অনেক রুশ জেনারেলকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং হত্যার সুযোগ পায় ইউক্রেনীয় বাহিনী।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে রুশ বাহিনী। তাদের একাধিক জেনারেল নিহতের বিষয়টি স্বীকার করেছে মস্কো।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন