default-image

ইউরোপের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি এখন বেলজিয়ামে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে তাই আবার লকডাউনে ফিরে যাচ্ছে দেশটি।

বেলজিয়াম সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনীয় দোকান বাদে অন্য সব দোকানপাট, সেলুনের মতো ব্যক্তিগত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আগামী সোমবার থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

জনসমাগমস্থলে একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারজনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

সুপারমার্কেটে কেবল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান খোলা থাকবে। কোনো পরিবার থেকে সর্বোচ্চ একজন বাইরে কেনাকাটা করতে যেতে পারবে।
স্কুলের ছুটি ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে রাতের বেলা যে কারফিউ জারি রয়েছে, তা বলবৎ থাকবে। কোনো পানশালা বা রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে না।

বিশ্বের মধ্যে প্রথম করোনা সংক্রমণের সময় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহার ছিল বেলজিয়ামে। এখন ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের হার এখানে।

দেশটিতে থাকা দুই হাজার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ বেড) অর্ধেকই কোভিড রোগীতে ভর্তি।

গতকাল শুক্রবার বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার দ্য ক্রো বলেছেন, ‘বেলজিয়াম জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতার ঘোষণা দিচ্ছে। আমাদের হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক চাপ বেড়েছে।’

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ভেনডেনব্রুক বলেছেন, নতুন লকডাউনে জনগণকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে না। এটা লকডাউন হলেও কারখানা খোলা থাকবে এবং স্কুলগুলো সতর্কতার সঙ্গে চালু রাখা হবে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৪ দিন ধরে এক লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে ৮ দশমিক ৪ জন লোক মারা গেছেন।

এর আগে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আঞ্চলিক সরকারের লকডাউন নিয়ে বিরোধ চলছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় এখন সবাই লকডাউনের বিষয়ে একমত হয়েছেন।

মৃত্যুহারের দিক থেকে অবশ্য ইউরোপে চেক রিপাবলিকও বেশ এগিয়ে রয়েছে। দেশটিতে ১১ লাখের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১১ হাজার ৩০০ জনের বেশি।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপের অন্য কয়েকটি দেশেও এখন লকডাউন জোরদার করা হয়েছে। ফ্রান্সে এক মাস লকডাউন দেওয়া হয়েছে। স্কুল ও কর্মক্ষেত্র চালু থাকলেও বাড়ির বাইরে যেতে লোকজনের অনুমতি লাগবে।

গত সোমবার থেকে জার্মানও লকডাউন লাইট চালু করেছে। এতে লোকজনের চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।

স্পেনের বার্সেলোনায় পুলিশ ও জনগণের মধ্যে করোনার বিধিনিষেধ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শহর ছাড়ার ক্ষেত্রে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0