default-image

জার্মানির লোয়ারসাক্সেনি রাজ্যের হ্যামিলন শহরে লকডাউন অমান্য করে আয়োজন করা একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে জর্জরিত জার্মানি। এ অবস্থায় কড়াকড়িভাবে কার্যকর করা হচ্ছে লকডাউন। কিন্তু বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রূপকথার হ্যামিলনের বংশীবাদকের শহরের একটি বাড়িতে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। হঠাৎ পুলিশ এসে সেখানে হাজির হয়। এতে জন্মদিন পালন করতে আসা শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।

ডের স্পিগেল পত্রিকা জানিয়েছে, করোনাকালে বিধিনিষেধের কারণে একসঙ্গে ৩০ জন জমায়েত হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে ওই অনুষ্ঠানে বাচ্চারা, প্রাপ্তবয়স্ক লোকসহ ৩০ জন হাজির হয়েছিলেন।

পুলিশ এসে হাজির হলে বাড়িটির বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ তালা ভেঙে বাড়িটিতে প্রবেশ করে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা দেখতে পেলেও প্রথমে সবাইকে খুঁজে পায়নি। পাঁচ শিশু ও একজন মা বাথরুমে আত্মগোপন করে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেন। আরও কিছু বাচ্চাকে বিভিন্ন আলমারিতে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ সবাইকে খুঁজে খুঁজে বের করে।

জার্মানির সংক্রামক রোগবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র রবার্ট কখ ইনিস্টিটিউট জানায়, মঙ্গল থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৬০০ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এ ছাড়া বুধ থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১ হাজার ২৪৪ জন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর জার্মানিতে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা। বিগত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ২৫ হাজার ১৬৪ জন।

হ্যামিলন পুলিশ জানিয়েছে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসা অনেকেই মাস্ক পরেননি। একত্রে এত মানুষ জড়ো হয়ে লকডাউন আইন লঙ্ঘন করেছেন। পরে অনুষ্ঠান বাতিল করে সবাইকে যাঁর যাঁর বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ১৫ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

জার্মানিতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কঠোর লকডাউন বিধি জারি করা হয়েছে। এরপরও সংক্রমণের বিস্তার বন্ধ হচ্ছে না। এক সপ্তাহ ধরে সংক্রামণ ক্রমে বাড়তে থাকায় বিশেষজ্ঞরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল লকডাউন আরও জোরদার করার কথা বলেছেন।

জার্মানির সংক্রামক রোগবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র রবার্ট কখ ইনিস্টিটিউট জানায়, মঙ্গল থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৬০০ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এ ছাড়া বুধ থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১ হাজার ২৪৪ জন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর জার্মানিতে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা। বিগত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ২৫ হাজার ১৬৪ জন।

জার্মানির দ্য জাইট পত্রিকা বলেছে, নতুন করে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই সাক্সেন রাজ্যের বাসিন্দা। গোটা দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ।

মন্তব্য করুন