সম্পর্ক টেকাতে হাতকড়া

হাতকড়া পরা তাঁরা দুজন।ছবি: রয়টার্স

দুজনের মধ্যে সম্পর্ক এই ভালো তো এই খারাপ। বলা যায়, সুতায় ঝুলছিল। সেটা টেকাতে শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁরা স্বেচ্ছায় হাতকড়া পরে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। হাতকড়া পরেই সারেন সব কাজকর্ম। কিন্তু এরপরও টিকল না সে সম্পর্ক। ১২৩ দিন পর খুলে ফেলা হলো হাতকড়া। সেই সঙ্গে ছেদ হলো তাঁদের ভালোবাসার সম্পর্কের।

সম্পর্ক টেকাতে বিচিত্র ওই ঘটনা ঘটেছে ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে। ওই তরুণ–তরুণীর নাম আলেক্সান্দর কাদলেই ও ভিক্তোরিয়া পুস্তোভিতোভা। গত বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দিন থেকে হাতকড়া পরে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন এই যুগল। মুদিদোকানের কেনাকাটা থেকে শুরু করে সিগারেট খাওয়া—সবই একসঙ্গে করেছেন তাঁরা। গোসল কিংবা শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও হাতকড়া সরেনি তাঁদের হাত থেকে। এই ঘটনা সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন পরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ জন্য রাতারাতি তারকা বনে যান তাঁরা।

গত শুক্রবার ওই যুগলের হাত থেকে যখন হাতকড়া খুলে ফেলা হয়, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি পুস্তোভিতোভা। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় তিনি শোকে ভেঙে পড়েন। রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে পুস্তোভিতোভা বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য, দেশ–বিদেশের সব যুগলের জন্য ভালো শিক্ষা হয়ে থাকবে।’

পুস্তোভিতোভা প্রথমে হাতকড়া পরে একসঙ্গে থাকার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু সম্পর্ক রক্ষায় রাজি হন তিনি। এরপরও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঘাটতির বিষয়টি অনুভব করেছেন। এ ছাড়া এত কাছাকাছি থাকার পরও তাঁর ছেলেবন্ধু তাঁর প্রতি খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না।

২৯ বছর বয়সী বিউটিশিয়ান পুস্তোভিতোভা বলেন, ‘আমরা সারা দিন একসঙ্গে থেকেছি। কিন্তু সে (আলেক্সান্দর) কখনো বলেনি, আমি তোমাকে মিস করছি। কিন্তু আমি এটা শুনতে উদ্‌গ্রীব ছিলাম।’

আলেক্সান্দর কাদলেই অবশ্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে অনুতপ্ত নন। তিনি বলেছেন, হাতকড়া পরে থাকার সময় তিনি বুঝতে পেরেছেন, তাঁরা দুজন এক মনের মানুষ নন। গাড়ির সেলসম্যান ৩৩ বছর বয়সী আলেক্সান্দর বলেন, ‘আমরা একই মতের নই। আমরা পুরোপুরি আলাদা।’

দাতব্যকাজের অর্থ সংগ্রহের জন্য হাতকড়াটি অনলাইন নিলামে বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন এই যুগল।