বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কপ ২৬–এর আলোচনায় যুক্ত যুক্তরাজ্যের দূত অ্যানি–মেরি ত্রেভেলায়ান বিবৃতিতে বলেন, ‘আরও মানুষের দরিদ্র হওয়া ঠেকাতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। টেকসই উন্নয়ন ও সবার জন্য জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে আমাদের এটা করতেই হবে।’ এদিকে সম্মেলনে সোমবার অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও দেশটির জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি।

সোমবার মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় অভিযোজন ও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। গরিব দেশগুলো শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ সামনে এনেছে। প্রায় এক যুগ আগে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে ধনীরা ২০২০ সালের মধ্যে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এটা পূরণ না হওয়ায় সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৩ সাল করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্লাসগোয় গরিব ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নাজেহাল এসব দেশ। তাই ক্ষতিপূরণের জন্য আরও অর্থ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সুনির্দিষ্ট মাত্রায় কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ঘোষণা।জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক যুব প্রতিনিধি এমিলি বোহোবো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সরকার ও দাতাদের ন্যায়সংগত অর্থসহায়তা এবং অভিযোজন প্রক্রিয়া ও ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়ে পরিকল্পনা ঘোষণার এটাই সময়।’

চলমান সম্মেলনের শুরুর দিকে বিশ্বনেতারা বন উজাড় ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সম্মেলন শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় আরও সুনির্দিষ্ট করার দাবি উঠে এসেছে। বেসরকারি সংস্থা অক্সফামের প্রধান ট্রেসি কার্টি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমরা অনেকগুলো ঘোষণা শুনেছি। বন উজাড় ঠেকানো, মিথেন নিঃসরণ কমানো—আরও নানা কথা বলা হয়েছে। তবে এসবের বিস্তারিত জানানো হয়নি। ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশের জাতীয় নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে এটা জরুরি।’

জলবায়ুবিষয়ক আইন ও নীতি বিশ্লেষক স্টিফেন লিওনার্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু দেশগুলো এ বিষয়ে হ্যান্ডবল খেলছে।’

জিডিপি কমবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যদি ২ দশমিক ৯ ডিগ্রির বেশি বাড়ে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা ৬৫ দেশের গড় জিডিপিতে ২০ শতাংশ পতন দেখা দিতে পারে। ২১০০ সাল নাগাদ তা কমতে পারে ৬৪ শতাংশ। আজ সোমবার গ্লাসগোয় প্রকাশিত বেসরকারি সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইডের এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্ত মেনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যদি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে ঠেকিয়ে রাখা যায়, তাহলে ওই ৬৫টি দেশের গড় জিডিপিতে ২০৫০ সালের মধ্যে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর চলতি শতক শেষে তা দাঁড়াবে ৩৩ শতাংশে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অর্থনৈতিক পতন ঠেকাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোকে দ্রুত রাজি করাতে কপ ২৬–এর আলোচকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবি উঠেছে। তবে চলমান কপ ২৬–এ সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন জীবাশ্ম জ্বালানি খাত থেকে। এমনকি এই খাত থেকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধির সম্মিলিত সংখ্যা কোনো একক দেশের প্রতিনিধির চেয়ে বেশি।

বিবিসির প্রতিবেদনে সোমবার বলা হয়েছে, এবারের সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধি রয়েছেন ব্রাজিলের, ৪৭৯ জন। যুক্তরাজ্য থেকে অংশ নিয়েছেন ২৩০ জন প্রতিনিধি। তবে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ৫০৩ জন এবারের জলবায়ু সম্মেলনে রয়েছেন। তাঁরা রাশিয়া–কানাডার মতো বিভিন্ন দেশ এবং জ্বালানি সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন