default-image

সামরিক শক্তিতে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর একটি যুক্তরাজ্য। দেশটির রয়েছে সুসজ্জিত সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী। তবে এখন প্রথাগত সেই সামরিক শক্তি থেকে সরে আসতে চাইছে ব্রিটিশ সরকার। এর পরিবর্তে প্রযুক্তির পথে হাঁটবে তারা। সামরিক বাহিনীকে রোবট, ড্রোন, সাইবারজগতে দাপিয়ে বেড়ানোর সক্ষমতাসহ নানা আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে চায় তারা। এরই অংশ হিসেবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ১০ হাজার কমানোর পরিকল্পনা করেছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। প্রতিরক্ষাবিষয়ক এক পরিকল্পনায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের সেনাসংখ্যা কমানো নিয়ে গতকাল সোমবার বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় রোবট, ড্রোন, সাইবার অস্ত্র বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এসব আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের কারণে কিছু ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান কমতে পারে। তবে সামনের দিনগুলোয় যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও নৌযুদ্ধের সরঞ্জাম বাড়াবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতির সমন্বিত পর্যালোচনা পৃথকভাবে প্রকাশ করা হয়। এরপর মন্ত্রণালয় দুটি

জানায়, আরও দক্ষ ও কার্যকর সামরিক বাহিনী গড়তে বড় ধরনের পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। আর সে কারণেই এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা। পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ব্রিটিশ সরকার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ১৮০ থেকে ২৬০টিতে উন্নীত করবে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটিতে কয়েক বছর ধরেই পূর্ণকালীন প্রশিক্ষিত সেনাসদস্যের সংখ্যা কমছে। ২০১৫ সালের অক্টোবরে পূর্ণকালীন সেনার সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার ৮০ জন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় ৮০ হাজার ১০ জনে। ভবিষ্যতে আরও ১০ হাজার সেনাসদস্য কমানো হবে।

সেনাসদস্য কমানো ও সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে তৈরি করা ওই পরিকল্পনা নথি গতকাল সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে পেশ করার কথা ছিল। ওই নথি পেশ করার আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস গত রোববার বিবিসি ওয়ানসের অ্যান্ড্রু মার শোতে বিষয়টি নিয়ে কথাও বলেন। সেখানে ওয়ালেস বলেন, প্রতিরক্ষা বাজেট বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতীয় সাইবার বাহিনীর কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে এবং নতুন মহাকাশ বাহিনী গড়ে তোলা হবে, যেটি যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ও বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ অভিযানের সমন্বয় করবে।

অবশ্য ছাঁটাই করে সেনাসংখ্যা কমানো হবে না বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। বিষয়টি ঘটবে ‘প্রাকৃতিক’ নিয়মে। অর্থাৎ যাঁরা চাকরি ছাড়বেন বা অবসরে যাবেন, তাঁদের পরিবর্তে নতুন কাউকে আর নিয়োগ দেওয়া হবে না। শুধু সেনা কমানোয় নয়, পুরো সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের। রয়্যাল মেরিনস বাহিনীকে নতুন ‘ফিউচার কমান্ডো ফোর্সে’ রূপান্তর করা হবে। এই ফোর্সে যুক্ত হবে দেশটির এসএএস এবং এসবিএসের মতো বিশেষ বাহিনীগুলোও। সমুদ্র নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা ও সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় নতুন এই ফোর্সে ২০ কোটির বেশি পাউন্ড সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তবে বিরোধী দল লেবার পার্টি বলছে, যুক্তরাজ্যের প্রতি নিরাপত্তা হুমকি বাড়ার পরও সেনাসদস্য কমিয়ে আনা হচ্ছে। এটার কোনো মানে থাকতে পারে না।

সরকারের পরিকল্পনা মতে, নতুন বৈদ্যুতিক যুদ্ধাস্ত্র ও ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। জাতীয় সাইবার বাহিনীর কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে এবং নতুন মহাকাশ বাহিনী গড়ে তোলা হবে, যেটি যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী ও বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ অভিযানের সমন্বয় করবে।

সামরিক বাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নথি পেশের আগে ওয়ালেস আরও বলেন, ‘ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মাদক চালান ধরা, বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করার মতো কাজে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে সফল হয়েছে, যা অন্যরা পারেনি। সামনের বছরগুলোয় বিশ্বজুড়ে আরও ব্যাপক আকারে নিজেদের যুক্ত করব আমরা।’

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন